
ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা ‘পার্সোনালাইজড’ এমআরএনএ (mRNA) টিকা কতটা কার্যকর হতে পারে, তার এক সম্ভাবনাময় প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে রাশিয়ার একটি গবেষণায়। দেশটির গবেষকদের দাবি, ত্বকের ক্যানসার ‘মেলানোমা’ আক্রান্ত প্রথম রোগীর শরীরে তাদের তৈরি পরীক্ষামূলক টিকা ‘নিওঅনকোভ্যাক’ (NeoOncoVac) প্রয়োগের পর আশাব্যঞ্জক ইমিউন রেসপন্স বা রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। টিকা নেওয়ার পর ওই রোগী বর্তমানে ভালো আছেন।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সাফল্য আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে এখনই ক্যানসারের চূড়ান্ত বা সফল চিকিৎসা বলা যাবে না।
সাধারণ টিকার চেয়ে ভিন্ন কৌশল
‘নিওঅনকোভ্যাক’ প্রচলিত কোনো প্রতিরোধমূলক টিকা নয়। এটি মূলত চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি বিশেষ প্রযুক্তি। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর টিউমারের নির্দিষ্ট জিনগত ও আণবিক (Genetic or Molecular) বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই অনুযায়ী একটি বিশেষ এমআরএনএ ফর্মুলেশন তৈরি করা হয়।
এই ফর্মুলেশনটি রোগীর নিজের শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে (Immune System) ক্যানসার কোষ বিশেষভাবে শনাক্ত করতে এবং তা আক্রমণ করে ধ্বংস করতে সক্ষম করে তোলে।
আশা জাগালেও রয়েছে যেসব সতর্কতা
অনকোলজি বা ক্যানসার গবেষণায় প্রাথমিক তথ্য ইতিবাচক হওয়া আর চিকিৎসাটি বৈজ্ঞানিকভাবে ‘প্রমাণিত’ হওয়া এক বিষয় নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী এখনই এটিকে মানদণ্ড ধরে না নেওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে:
- একক নমুনা: এই ইতিবাচক ফলাফলটি কেবল প্রথম একজন মাত্র রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
- পরীক্ষিত নয়: ব্যাপক পরিসরে এই টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
- দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ: ক্যানসারের টিউমার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে কি না এবং রোগীর আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে কি না, তা জানতে দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ প্রয়োজন।
- ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাধ্যবাধকতা: বড় আকারের নিয়ন্ত্রিত ট্রায়াল বা ক্লিনিক্যাল ডেটা ছাড়া কোনো ওষুধ বা টিকাকে মূলধারার চিকিৎসা বা ‘স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট’ বলা যায় না।
গবেষকদের মতে, প্রথম রোগীর শরীরে ইমিউন রেসপন্স দেখা যাওয়া নিঃসন্দেহে ক্যানসার গবেষণায় একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তবে নিওঅনকোভ্যাক বাস্তবে মেলানোমা চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নির্ধারণ করবে আরও অনেক রোগীর ওপর পরীক্ষা, নিয়ন্ত্রিত তথ্য এবং দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ।
