
পাবনার ঈশ্বরদীতে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক এলাকা ‘গ্রিনসিটি’তে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রবাসীদের নিজস্ব কক্ষে মদ্যপ অবস্থায় দুই সহকর্মীর মধ্যে এই মারামারিতে এক রুশ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অপরজন মারাত্মক আহত হয়ে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে গ্রিনসিটির ৬ নম্বর ভবনের ৫০১ নম্বর কক্ষে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নিহত রুশ নাগরিকের নাম সের্গেই নিকোলায়েভিচ (৫৬)। গুরুতর আহত মেনচেভ (৫৩) নামের আরেক রুশ নাগরিককে পাবনার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা দুজনই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রোসেম’-এর কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজেদের কক্ষে দুই রুশ নাগরিক একসঙ্গে বসে মদ্যপান করছিলেন। একপর্যায়ে কোনো একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। মুহূর্তেই তা হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় ঢলে পড়েন।
আবাসিক ভবনের অন্য সহকর্মীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে গ্রিনসিটির নিজস্ব মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁদের পাবনার এসোর্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সের্গেই নিকোলায়েভিচ মারা যান।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাশিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে লাশ তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সংঘর্ষের মূল কারণ উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে কয়েক হাজার বিদেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মকর্তা দিনরাত কাজ করছেন। তাঁদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটি একটি বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীসম্পর্কিত এলাকা। এমন হাই-সিকিউরিটি জোনের ভেতর বিদেশিদের নিজেদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনায় পুরো প্রকল্প এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
