পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। বৃষ্টির কারণে খেলা বিঘ্নিত হলেও প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে রয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিন শেষে উইন্ডিজদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৩৯ রান। জাস্টিন গ্রিভসের অপরাজিত ৬৪ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করে দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। খারাপ আলোর কারণে দিনের খেলা প্রায় ১৬ ওভার আগেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
ম্যাচের আগে পাকিস্তানের একাদশে পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের আকস্মিক অনুপস্থিতি নিয়ে বেশ আলোচনা চলে। সেই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য বেশ ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয় যখন উইন্ডিজ ওপেনাররা শুরুতেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন। মাত্র ৯.৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। এরপরই বৃষ্টি নামলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মধ্যাহ্নভোজের বিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে বিরতির ঠিক আগে প্রথম সাফল্য পায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ আলীর একটি বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে ফাইন লেগের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর খেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। কুইন্স পার্ক ওভালের উইকেটে প্রথম দিন থেকেই স্পিনারদের জন্য টার্ন মিলছিল। পাকিস্তানের দুই স্পিনার সাজিদ খান ও অভিষেক হওয়া আলী উসমান উইন্ডিজ ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। রিভিউয়ের সাহায্যে ব্র্যান্ডন কিংকে (৪৬) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট শিকার করেন উসমান। এরপর কাভেম হজকে সাজিদ খানের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের চমৎকার ক্যাচে পরিণত করে পাকিস্তান। এ উইকেটের জন্যও পাকিস্তানকে রিভিউ নিতে হয়েছিল।
এরপর শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। হোপ কভারের ওপর দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা মেরে উইন্ডিজের আক্রমণাত্মক মনোভাবের জানান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাবর আজম পেসার ওবায়েদ শাহকে বোলিংয়ে আনেন। অভিষেক হওয়া ওবায়েদের প্রথম বলেই লেগ সাইডের একটি আলগা ডেলিভারিতে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন জাঙ্গু। এটি ছিল ওবায়েদের প্রথম টেস্ট উইকেট।
তবে ওবায়েদ আরও বেশ কিছু বাউন্ডারি হজম করেন এবং তিন ওভার বোলিং করার পর তাকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে উসমানের দ্বিতীয় স্পেলটিও সমানভাবে নির্বিষ প্রমাণিত হয়, যেখানে তিনি তিন ওভারে ১৭ রান দেন।
পরবর্তীতে তার গতি আরও কমে যায় এবং সেই স্পেলটি মাত্র দুই ওভার স্থায়ী হয়, যেখানে তিনি আরও ১৫ রান খরচ করেন।
চা-বিরতির পর জাস্টিন গ্রিভস দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকেন। কভার ড্রাইভের সাহায্যে বেশ কিছু বাউন্ডারি আদায় করে নেন তিনি। তবে শেষ সেশনের শুরুতে শাই হোপ ২৯ রান করে মোহাম্মদ আলীর বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে উইন্ডিজ। ষষ্ঠ উইকেটে উইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজকে সাথে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটি গড়ে সেই চাপ সামাল দেন গ্রিভস। শেষ পর্যন্ত গ্রিভস ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ আলী ২টি এবং সাজিদ খান, আলী উসমান ও ওবায়েদ শাহ ১টি করে উইকেট নেন।

