গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার সময় দুটি হেলিকপ্টার মাঝ আকাশে সংঘর্ষের শিকার হয়েছে। রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার (৪২ মাইল) পশ্চিমে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টারের প্রপেলার অন্যটির গায়ে আঘাত করলে সেটি অগ্নিদগ্ধ হয়ে পড়ে। এরপর হেলিকপ্টার দুটি খাদের গভীরে আছড়ে পড়ে।
গ্রিক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ‘পসাথা’ এলাকায় দাবানল নেভানোর কার্যক্রম চলাকালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে দুজন গ্রিক এবং দুজন রোমানিয়ান নাগরিক। উদ্ধারকারীরা তাদের মধ্যে দুজনকে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পেয়েছেন এবং বাকিরা হালকা আঘাত পেয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য ২৫১তম এয়ার ফোর্স জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে গ্রিসের পোর্তো জারমেনো, পসাথা, ফোকিদা, মেগারা এবং কেফালোনিয়াসহ বিশাল এলাকা জুড়ে দাবানল জ্বলছে। গত ৭২ ঘণ্টায় ৫০০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন নেভানোর কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রিসের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশও সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট দাবানলের কবলে পড়েছে। ফ্রান্স এবং স্পেনের মতো দেশগুলোতেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো জ্বলছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যারা এখন নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ দাবানল মানুষের অসতর্কতা বা ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ডের কারণে শুরু হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট আবহাওয়া পরিস্থিতি এখন দাবানলের অনুকূলে কাজ করছে। গত শীতকাল ছিল মৃদু ও আর্দ্র, যার ফলে গাছপালা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরবর্তী গরমের সময় সেগুলো শুকিয়ে দাবানলের জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।

