বিশ্বের ৪১টি দেশের একটি জোট পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগে আগাম নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জোটটি সতর্ক করে বলেছে, কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ আঞ্চলিক শান্তি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
বুধবার জেনেভায় নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক এক সম্মেলনে যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ‘হেগ কোড অফ কন্ডাক্ট এগেইনস্ট ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রলিফারেশন’ (এইচসিওসি)-এর অধীনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত তথ্য ও সতর্কতা ছাড়া পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিশেষ করে উৎক্ষেপণ এলাকার কাছাকাছি থাকা দেশগুলোর জন্য ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এই জোটের সদস্যরা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশযান উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, আগাম নোটিশে ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন, উৎক্ষেপণের সময়, এলাকা এবং পরিকল্পিত গতিপথ উল্লেখ থাকা উচিত। এছাড়া, কাছাকাছি থাকা জাহাজ ও বিমানের জন্য স্পষ্ট সতর্কতা প্রদানের ওপরও জোর দিয়েছে জোটটি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এই আবেদনটি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা, যেখানে তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দেশকে নোটিশ দিয়েছিল। জোটের দাবি, এই ধরনের মানসম্মত নোটিশ প্রক্রিয়া কোনো দেশের সামরিক উন্নয়ন বা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা কমিয়ে আনবে।
তবে চীনের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত লি চিজিয়াং এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, বেইজিংয়ের বৈধ প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়। তিনি চীনের আগাম নোটিশ প্রদানের বিষয়টিকে সমর্থন করে বলেন, তাদের এই পদক্ষেপগুলোকে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।
এই ৪১টি স্বাক্ষরকারী দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ইউক্রেন উল্লেখযোগ্য।

