স্পেনের উত্তর আফ্রিকার অঞ্চল সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। সেউতার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই বিপজ্জনক যাত্রাপথে অন্তত ৩৪ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরের পর থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেখানে পৌঁছেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত এই অনুপ্রবেশ অব্যাহত ছিল।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর একটি 'আক্রমণ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, অবৈধভাবে প্রবেশ করা সব অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী এই বিশৃঙ্খলার জন্য অপরাধী চক্রগুলোকে দায়ী করে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল তথ্য 'দাবানলের মতো' ছড়িয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, মরক্কোর কর্তৃপক্ষ এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সরকার সেউতা এবং মেলিলা শহরে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। মেলিলাতেও গত রাতে ৩০০ থেকে ৪০০ জন অভিবাসীর প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেউতায় আসা অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত ৭ হাজার শিশু রয়েছে। তবে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন অভিবাসী সেউতা ছেড়ে মরক্কোর দিকে ফিরে যাচ্ছেন।
এই ঘটনার পর ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই চিত্রকে 'স্তম্ভিত হওয়ার মতো' বলে মন্তব্য করেছেন এবং এটিকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইতালি-স্পেন সীমান্তে শেনজেন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে। ফিনল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারি রানতানে এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেইন এই ঘটনাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
সেউতা ও মেলিলা দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপে প্রবেশের একটি কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, সমুদ্রপথে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। এই রায়ের পর থেকেই অভিবাসীদের প্রবেশের হার বৃদ্ধি পায়। ২০২১ সালে মরক্কোর সাথে স্পেনের কূটনৈতিক উত্তেজনার সময় প্রায় ৮ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়েছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ ও বিশৃঙ্খল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। একজন হাসপাতাল নিরাপত্তা কর্মী জানিয়েছেন, স্থানীয়রা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না এবং পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক।

