কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার নামক একটি জনপদ, যা বোগোতা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল (৪০০ কিলোমিটার) পশ্চিমে অবস্থিত। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ৬৬ মাইল (১০৭ কিলোমিটার) গভীরে আঘাত হানে। কম্পনটি প্রতিবেশী দেশ পানামা ও ইকুয়েডরেও অনুভূত হয়েছে, যদিও সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সামান্য।
দেশটির ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা জানিয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে এটিই কলম্বিয়ায় রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর পরপরই ২.৮ এবং ৪.৮ মাত্রার দুটি আফটারশক অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের প্রভাবে পেরেইরা শহরে ১৮ জন, মানিজালেস শহরে ২ জন এবং ভ্যালে দে কাউকা বিভাগে ২৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এই বিভাগের অন্তর্গত কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্যালির মেয়র আলেজান্দ্রো এডার জানিয়েছেন, অন্তত ১৯টি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে এবং ভেতরে অনেকে আটকা পড়েছেন। পেরেইরা শহরের মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানান, সেখানেও বিপুল সংখ্যক ভবন ধসে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় পেরেইরা বিমানবন্দরের ছাদের অংশ ধসে পড়ছে এবং যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করছেন।
মানিজালেসের মেয়র জর্জ এদুয়ার্দো রোজাস জানিয়েছেন, শহরের নিও-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি টাওয়ার ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বোগোতা পর্যন্ত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। ক্যালির ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সি চালক জর্জ মনকায়ো জানান, তিনি পাহাড়ের ওপর থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ধুলোর কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন। তিনি বলেন, তার পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল এবং জীবনে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প তিনি দেখেননি।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট অবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সান হোসে দেল পালমারে জরুরি উদ্ধার তৎপরতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে। ভূমিকম্পের কারণে মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাবেন্তুরাসহ বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। কলম্বিয়ায় ৬.০ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প সচরাচর ঘটে না, তবে ১৯৯৯ সালে আরমেনিয়া শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১,১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

