দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্ব দিকে অবস্থিত কেম্পটন পার্ক এলাকায় গত দুই মাসে আটজন নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনাগুলো দেশজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং নারী হত্যা বা ফেমিসাইড ও সহিংস অপরাধের উচ্চ হার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
গাউতেং প্রদেশের পুলিশ কমিশনার ফ্রেড কেকানা জানিয়েছেন, পুলিশ প্রতিটি ঘটনার প্রমাণ, সময়রেখা, ঘটনাস্থল এবং ভুক্তভোগীদের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে দেখছে যে ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না। তবে তিনি এখনই এগুলোকে কোনো সিরিয়াল কিলিং বা একক অপরাধীর কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কেকানা বলেন, তদন্তকারীরা একাধিক সন্দেহভাজন বা ভিন্ন ভিন্ন অপরাধীর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।
তদন্তাধীন বিষয়গুলোর মধ্যে একটি উদ্বেগের কারণ হলো মৃতদেহগুলো পাওয়ার স্থানগুলোর একে অপরের কাছাকাছি অবস্থান। প্রথম পাঁচটি মৃতদেহ কেম্পটন পার্কে পাওয়া গেলেও, পরবর্তী মরদেহগুলো পাওয়া যায় ওলিফ্যান্টসফন্টেইন এবং কোয়া-থেমা এলাকায়, যা যথাক্রমে ২৫ ও ৩৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পুলিশ সতর্ক করেছে যে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সিরিয়াল কিলারের যোগসূত্র নিশ্চিত করা যায়নি, তবে ঘটনাগুলোর মিল যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী আট নারীর বয়স ২০ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। তাদের মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে নগ্ন বা অর্ধনগ্ন অবস্থায় এবং সবার শরীরেই আঘাতের চিহ্ন ছিল। ১৭ জুলাই প্রথম মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়, যা কেবল টাই দিয়ে বাঁধা ছিল। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর প্রেমিক সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
সম্প্রতি ৩৮ বছর বয়সী দৌড়বিদ এলিজাবেথ “ৎসোনৎসো” মোসেলাকগোমোর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আট বছর বয়সী মেয়ে তার মায়ের প্রতিদিনের বিকেলে জগিংয়ে না ফেরার বিষয়টি জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল। এছাড়া মঙ্গলবার ওলিফ্যান্টসফন্টেইনে উদ্ধার করা অপর একটি মৃতদেহ পচন ধরা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগীর বয়স ২০ বছর।
জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা বিষয়ক সংস্থার তথ্যমতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেমিসাইডের হার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে দেশটির একটি থিংক ট্যাঙ্কের গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৫ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

