উগান্ডার বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান মারচিসন ফলস ন্যাশনাল পার্কে এক গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বিপন্ন প্রজাতির ১২টি নুবিয়ান জিরাফকে ১০৬ কিলোমিটার (৬৫ মাইল) দূরে আজাই ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি মূলত প্রজাতিটির সংখ্যা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি অংশ।
উগান্ডা ওয়াইল্ডলাইফ অথরিটির ভেটেরিনারি সার্ভিসেসের সহকারী কমিশনার প্যাট্রিক আতিমেনেদি, যিনি এই স্থানান্তর কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, জানিয়েছেন যে বর্তমানে পার্কটিতে তেল উত্তোলনের কারণে প্রাণীদের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, মারচিসন ফলস এলাকার প্রায় ৪০ শতাংশ তেল মজুদ পার্কের ভেতরেই অবস্থিত। গত কয়েক মাসে সেখানে ভারী যন্ত্রপাতির চলাচল এবং তেল খনন কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের বিরোধিতার পরেও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের জুন মাসে টোটালএনার্জিস এই পার্কের তিলেঙ্গা প্রকল্পের আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু করে।
আতিমেনেদি আরও জানান, প্রায় ৬ মিটার (২০ ফুট) উচ্চতা এবং ২,০০০ কেজি (৪,৪০০ পাউন্ড) ওজনের এই বিশাল প্রাণীদের জন্য বর্তমান বাসস্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) দূরে একটি নতুন বংশবৃদ্ধির কেন্দ্র তৈরি করা বর্তমান পরিস্থিতিতে সঠিক সংরক্ষণ সিদ্ধান্ত। স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনটি জিরাফকে ট্রাকে তোলার সময় তাদের চিবানোর জন্য গাছের ডাল দেওয়া হয়।
আজাই ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভে ১২ জন রেঞ্জার এই প্রাণীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিলেন। ১৬৬ বর্গকিলোমিটার (৬৪ বর্গমাইল) আয়তনের এই রিজার্ভটি ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে চোরাশিকার এবং অস্থিতিশীলতার কারণে বন্যপ্রাণীশূন্য হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে এটি একটি বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় রয়েছে, যেখানে জিরাফের পাশাপাশি দক্ষিণ সাদা গন্ডার, মহিষ, জেব্রা এবং শত শত উগান্ডা কব অবমুক্ত করা হচ্ছে।
আজাই ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভের সিনিয়র ওয়ার্ডেন উইলসন কাতামিগওয়া জানান, রিজার্ভে আগের প্রাণীরা ভালো আছে এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই স্থানটি ভবিষ্যতে উগান্ডার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠবে। জিরাফ স্থানান্তর সম্পন্ন হলে স্থানীয় মাদি ওকোলো জেলার বাসিন্দাদের এই প্রাণীদের দেখার সুযোগ দেওয়া হবে, যা পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় বাসিন্দা মোসেস আয়োতি এই উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় সম্প্রদায় এই প্রাণীদের যত্ন নিতে সচেষ্ট থাকবে।

