যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থাপিত অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য ও কিছু সেবা আমদানি নিষিদ্ধ করবে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিলিব্যান্ড নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে যুক্তরাজ্যের সমর্থন জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের বিষয়ে পূর্বসূরিদের চেয়ে আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করতে পারেন। যদিও ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সব দাবি এই ঘোষণায় পূরণ হচ্ছে না, তবুও একে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ রোধে যুক্তরাজ্যের একটি সক্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে কিছু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কারণ রয়েছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৪৬% প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েলি অবৈধ বসতির পণ্য নিষিদ্ধ করার পক্ষে, যেখানে মাত্র ১৮% এর বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া, ফিলিস্তিন ইস্যুতে গ্রিন পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপও রয়েছে লেবার পার্টির ওপর। বিশেষ করে ৮ অক্টোবর হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের উপ-নির্বাচনে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় লেবার প্রার্থীকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিতে এই নীতি সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের চরম অবনতি হতে পারে। ইতোমধ্যে গাজায় ত্রাণ সরবরাহে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বাধার সমালোচনা করায় মিলিব্যান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে তেল আবিব। এমনকি ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি লেবার সরকারকে "ইহুদি বিদ্বেষী" বলে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাথে ফোনালাপ করেছেন।
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে মোট বাণিজ্য ছিল ৬ বিলিয়ন পাউন্ড। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নতুন আইনের প্রয়োজন হতে পারে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবৈধ বসতির অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপনের মতো সেবা খাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০০৫ সাল থেকেই অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে কোনো শুল্ক সুবিধা পায় না। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের একটি পরামর্শমূলক মতামতের আলোকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বে সহায়তা না করার জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের "ই-১" (E1) বসতি স্থাপন প্রকল্প আগামী নভেম্বর থেকে পুরো অঞ্চলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলবে। এর পাশাপাশি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং হামাসের নিরস্ত্রকরণ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস'-এর ব্যর্থতা বার্নহাম সরকারকে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু সম্প্রতি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন। এর পর ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ফকল্যান্ডের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

