প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ০৯
বাংলাদেশে সরকারিভাবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান শোনা গেলেও বাস্তবে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ বা মার্কিন স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারকে মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য ভোট দেয়নি। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মিডিয়া এন্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে।
অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, নৌবাহিনী কিংবা বেসরকারি কোম্পানিগুলো বন্দর পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্দর পরিচালনার মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হলেও কোনো সরকারই সেই পথে হাঁটেনি। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের প্রতি সম্মান থাকলে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। বন্দরকে দক্ষ ও সক্ষম করতে আমলাতন্ত্র, কাস্টমস ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন, যার সঙ্গে বিদেশি কোম্পানি আনার কোনো সম্পর্ক নেই। বিদেশি কোম্পানিগুলোর আগমনে অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকিও রয়েছে, যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন বলেন, বন্দরকে কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে দেখলে চলবে না, এর সঙ্গে জনগণের সম্পদের মালিকানার প্রশ্ন জড়িত। লাভজনক টার্মিনালসহ দেশের সম্পদ বিদেশি বা ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি।
মিডিয়া এন্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক বাতেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রেসিডেন্ট দিলীপ রায় এবং নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার।

