অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের অদূরে তেল নামক একটি শহরে ইসরায়েলি বাহিনী বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে ৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি যুবককে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও 'ভয়েস অফ প্যালেস্টাইন' রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইসরায়েলি সৈন্যরা শহরের একটি বাড়ি দখল করে সেটিকে অস্থায়ী জিজ্ঞাসাবাদের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়া পুরো শহরটি চারপাশ থেকে ঘিরে রেখে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ব্যাপক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। হাভাট গিলাদ বসতির কাছে এক হামলায় দুই ইসরায়েলি সৈন্য নিহত এবং তিনজন আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় সাক্ষী ও সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ঘটনার পর অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা নাবলুস গভর্নরেটের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি এলাকায় হামলা চালিয়েছে এবং বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুক্রবার বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ জনই মারা গেছেন অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১,১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ২৪ হাজার মানুষ আটক হয়েছেন।
উল্লেখ্য, হাভাট গিলাদ বসতিটি ২০০২ সালে একটি আউটপোস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৮ সালে ইসরায়েলি সরকার সেটিকে অনুমোদন দেয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ। গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক ঐতিহাসিক পরামর্শমূলক মতামতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং তাদের নতুন বসতি স্থাপন বন্ধ ও বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।

