প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রতিশ্রুতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫,০০০ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ক্যাপিটল হিলে তার নিজের দলের সদস্যদের কাছ থেকেই প্রবল বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজেট বিশেষজ্ঞ ও রক্ষণশীল অর্থনীতিবিদরা এই ধারণার তীব্র বিরোধিতা করছেন। রিপাবলিকানদের বর্তমান ভোট মার্জিনে খুব অল্প সংখ্যক সদস্যের বিরোধিতা যেকোনো বিল আটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে তার ভোট কেনা যাবে—এমন ধারণা তাকে অপমানিত করেছে। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি চিপ রয় এই প্রস্তাবের জবাবে বলেছেন, সরকারি নির্ভরতা যেকোনো রূপেই ক্ষতিকর ও আত্মাকে গ্রাস করে নেয়।
ট্রাম্পের এই হঠাৎ ঘোষণা অনেক রিপাবলিকান আইন প্রণেতার জন্য একটি কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানরা দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেটের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় জাতীয় ঋণ কমানোর চেয়ে নাগরিকদের নগদ অর্থ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাওয়া মার্কিন ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদদের আরও চিন্তিত করে তুলেছে।
৯ সেপ্টেম্বর ফক্স নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন এই পরিকল্পনা নিয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি। ডালাসে দলের কনভেনশনে ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়ে রিপাবলিকান নেতারা আগে থেকে খুব একটা জানতেন না বলেই মনে হচ্ছে। জন থুন বলেন, সময় এলে বিষয়টি দেখা যাবে।
তবে কিছু রক্ষণশীল নেতা ট্রাম্পের এই ধারণাকে সমর্থন করলেও শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। সিনেট বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান রন জনসন বলেন, করদাতাদের নিজেদের উপার্জিত অর্থ তাদের কাছে রেখে দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে তিনি সবসময় স্বাগত জানান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের আর্থিক ত্রাণ অবশ্যই বাজেট ঘাটতি কমানোর কথা মাথায় রেখে করতে হবে। তার মতে, ফেডারেল সরকারের অপচয় ও জালিয়াতি রোধ করে এই অর্থের সংস্থান করা উচিত, কোনো সরকারি সুবিধা কমিয়ে নয়।
হাউস ফ্রিডম ককাসের চেয়ারম্যান অ্যান্ডি হ্যারিস এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনিও রন জনসনের মতোই ফেডারেল প্রোগ্রামগুলোতে অপচয় ও জালিয়াতি রোধের মাধ্যমে অর্থায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে। এই পরিস্থিতির কারণে রিপাবলিকানদের জন্য আইন পাসের পথটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, কারণ সিনেটে ৬০ ভোটের সাধারণ নিয়ম পার করতে তাদের কোনো একক দলীয় বিলের ওপর নির্ভর করতে হবে।

