জার্মানিতে অতি-ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র সাম্প্রতিক বড় ধরনের নির্বাচনী বিজয়ের পর দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবার দেশটির প্রায় ২০টি শহরে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়, যেখানে বিক্ষোভকারীরা এএফডি-কে দেশের সংবিধানের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেছেন।
গত সপ্তাহে জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বিশাল জয় পায় এএফডি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো অতি-ডানপন্থী দল জার্মানির কোনো রাজ্যে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এই নির্বাচনী ফলাফলের পর জার্মানি জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বার্লিন, হামবুর্গ এবং মিউনিখসহ দেশজুড়ে প্রায় ২০টি শহরে অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এএফডি নিষিদ্ধ করার পক্ষে প্রচার চালানো সংগঠন 'প্রুফ' (Pruef) এই বিক্ষোভের ডাক দেয়।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে "এএফডি-কে এখনই নিষিদ্ধ করুন" এবং "গণতন্ত্রের কোনো বিকল্পের প্রয়োজন নেই" এর মতো স্লোগান শোভা পাচ্ছিল। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ক্যাম্পেইন গ্রুপ 'ক্যাম্প্যাক্ট'-এর প্রধান ক্রিস্টফ বাউটজ বলেন, "স্যাক্সনি-আনহাল্টে সংবিধানের শত্রুরা যাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, তা প্রতিরোধ করতে সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ আজ রাজপথে নেমে এসেছে।"
জার্মানির নাৎসি অতীতের কারণে দেশটির একটি বিশেষ ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। ফলে এএফডি-র এই উত্থান সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দলটিকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জোরালো হচ্ছে। তবে জার্মানিতে কোনো রাজনৈতিক দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। দেশটির মধ্য-ডানপন্থী সিডিইউ (CDU) পার্টির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
রাজধানী বার্লিনে আয়োজিত বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে সেখানে এএফডি-র পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই পাল্টা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আগামী সপ্তাহের বার্লিন আঞ্চলিক নির্বাচনে দলটির প্রধান প্রার্থী ক্রিস্টিন ব্রিঙ্কার। এদিকে ক্যাম্প্যাক্ট-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামবুর্গে প্রায় ২৫,০০০ এবং মিউনিখে ১২,০০০ মানুষ এএফডি-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবারের নির্বাচনে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে অভিবাসনবিরোধী দল এএফডি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যেখানে সিডিইউ পেয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র তিনটি আসন দূরে থাকা এএফডি এখন রাজ্যে সরকার গঠনের লক্ষ্যে অন্যান্য দল ও সংসদ সদস্যদের সাথে আলোচনা শুরু করেছে।

