মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বুধবার একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এই বার্তা দিতে যে, দুই দেশ বন্ধু হতে পারে এবং বাণিজ্য করতে পারে, তবে মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই এই প্রস্তাবটি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একবারে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু মিয়ানমারের দিকে রাগে চিৎকার করার চেয়ে এটি অনেক ভালো কূটনীতি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাদের কে নেবে বা কোথায় পাঠানো হবে, কারণ অনেকের মিয়ানমারের নাগরিকত্বই নেই।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আলোচনার প্রেক্ষিতে মিয়ানমার প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১,৪৭৬ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, শুধু পাঠালেই হবে না, বরং মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আলোচনায় মিয়ানমার এই শর্তগুলো মেনে নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে দুই লাখের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছে, যার মধ্যে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজারের বেশি। মিয়ানমার যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে, তবে এটি হবে মিন অং হ্লাইংয়ের কোনো আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রে পঞ্চম সফর। এর আগে তিনি লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম সফর করেছেন। ২০২১ সালের পর থেকে আসিয়ান মিয়ানমারের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং জোটের শীর্ষ সম্মেলনে দেশটির নেতাদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ০৮আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ১৩
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, আলোচনার পর মিয়ানমার প্রাথমিকভাবে ৫,০০০ শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১,৫০০ জনকে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১,৪৭৬ জনকে প্রত্যাবাসন করা হবে।

