শহর কিংবা গ্রাম—সবখানেই এখন বেপরোয়া গতির এসইউভি (SUV) এবং পিকআপ ট্রাকের দৌরাত্ম্য। অনেক চালকই কোনো ধরনের সতর্কতা বা নৈতিকতা ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছেন। এটি যেন পরিবহণ ব্যবস্থায় এক ধরনের 'মেগা-ফিকেশন' বা উগ্র সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ। রাস্তায় আইন ভাঙা এখন কেবল দৃশ্যমান নয়, বরং এটি যেন এক ধরনের গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি থেকে আনন্দ পাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অথচ পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রায়ই এই অসামাজিক আচরণকে উপেক্ষা করছে অথবা লঘু শাস্তিতেই দায় সারছে।
গত মাসে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে স্ট্রিট রেসিংয়ের দায়ে তিন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন ৪০ মাইল গতির এলাকায় ৮০ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং তৃতীয়জন ৩০ মাইল গতির এলাকায় ৯০ মাইল গতিতে গাড়ি চালিয়েছেন। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠিত রেসিং একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কখনো কখনো ২০০টির বেশি গাড়ি এবং শত শত দর্শক অংশ নেয়। এর ফলে অকালে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের মতো ঘটনা ঘটছে, বিশেষ করে যখন রেসাররা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর চালকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় পুলিশ রেসিংয়ের প্রমাণ খুঁজে পায় না।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস যুক্তরাজ্যের হাতেগোনা কয়েকটি স্থানের একটি যেখানে পুলিশ স্ট্রিট রেসিং ও 'ড্রিফটিং'-এর মতো বিপজ্জনক কসরত বন্ধে সক্রিয়। স্থানীয় পুলিশ কমিশনার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বার্মিংহাম ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তির মধ্যে একজনকে স্থগিত দণ্ড, ২৭২ পাউন্ড জরিমানা ও ১৫০ ঘণ্টার কমিউনিটি সার্ভিসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য একজনকে ১,২৭৫ পাউন্ড জরিমানা ও সাতটি পেনাল্টি পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে, যার অর্থ সে কোর্ট থেকে বের হয়েই আবার গাড়ি চালাতে পারবে। আর যে ব্যক্তি ৩০ মাইল এলাকায় ৯০ মাইল গতিতে চালিয়েছে, তাকে মাত্র ২৫৩ পাউন্ড জরিমানা ও ৫৬ দিনের ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অথচ অন্য কোনো উপায়ে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করলে শাস্তি হতো অনেক বেশি, কিন্তু ড্রাইভিংয়ের ক্ষেত্রে যেন বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
মিড-ওয়েলসেও একই ধরনের রেসিং সংস্কৃতি বিদ্যমান। সেখানে উচ্চ শব্দযুক্ত মডিফাইড এক্সজস্টের গাড়ি নিয়ে রাত ১০টা থেকে ভোর ২টা পর্যন্ত রেসিং চলে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার পুলিশকে জানালেও তেমন কোনো ফল পাওয়া যায়নি। উল্টো অভিযোগ করার পর চালকরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ওয়েলসে আবাসিক এলাকায় এখন ২০ মাইল গতির নিয়ম থাকলেও তা খুব একটা কার্যকর নয়।
ডেভন এলাকায় আবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা যায়। এখানে মধ্যবয়সী পুরুষরা তাদের পিকআপ ট্রাকগুলোকে এমনভাবে মডিফাই করে যাতে প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়, যাকে বলা হয় 'রোল কোল'। ইউএসএ থেকে আসা এই সংস্কৃতি মূলত সাইক্লিস্ট, পথচারী এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির চালকদের লক্ষ্য করে চালানো হয়, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এই ধরনের আচরণকে পেট্রো-মাসকুলিনিটি বা উগ্র পুরুষতান্ত্রিক দাপট হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রায়ই বর্ণবাদী বা লিঙ্গবিদ্বেষী স্লোগান বহন করে। এই সংস্কৃতি যুক্তরাজ্যে মার্কিন রাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলোর প্রসার ঘটাচ্ছে। রাস্তায় এই ধরনের স্বার্থপরতা ও বেপরোয়া আচরণ কেবল আইন অমান্য নয়, বরং এটি আমাদের সমাজকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

