ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি চালিয়ে রাশিয়া সেই স্যাটেলাইট ছবি ইরানকে সরবরাহ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে রাশিয়ার সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারি চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়ার সংগৃহীত এই স্যাটেলাইট ছবিগুলোর সঙ্গে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। হামলা চালানোর আগের প্রস্তুতিমূলক পর্যায় এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতিের পরিমাণ নির্ধারণ—উভয় ক্ষেত্রেই রাশিয়ার এই ছবিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে গত ১৯ ও ২০ জুলাই বাহরাইনের দুটি, জর্ডানের একটি এবং কুয়েতের একটি বিমান ঘাঁটি রাশিয়ার স্যাটেলাইটের নজরদারির আওতায় এসেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সহযোগিতার বিষয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে জেলেনস্কি বলেন, অশুভ শক্তি সবসময় পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করার এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার পথ খোঁজে। তাই কোনোভাবেই এই সত্য এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয় এবং রাশিয়াকে এখনই থামাতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান নিয়ে ইরানকে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য এটিই প্রথম নয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায়, ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই বিকেল ৪:০৩ মিনিটে (যা ইডিটি সময় অনুযায়ী 25 July 2026, 4:03 PM) সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছিলেন যে, রাশিয়া এই অঞ্চলে মার্কিন অবস্থানের তথ্য ইরানকে দিচ্ছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই প্রক্রিয়ায় চীনের জড়িত থাকার গুঞ্জনও উঠে আসে।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে কিছু না বললেও স্বীকার করেন যে, চীন ও রাশিয়া ইরানকে নানাভাবে সাহায্য করছে। তবে এই সহযোগিতার গভীরতা ও পরিধি কতটুকু, তা গোপনীয় থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাত্র কয়েক দিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সম্পূর্ণ ভিন্নমত প্রকাশ করেন। ট্রাম্প জানান, তিনি বিশ্বাস করেন না যে চীন বা রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা এতে জড়িত নন। ট্রাম্পের মতে, এই যুদ্ধে জড়ানো দেশ দুটির জন্য খুবই খারাপ হবে এবং এটি তাদের স্বার্থের পরিপন্থী।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অতি সম্প্রতি জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় তিন জন এবং ইরাকে একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হন। এর আগে গত মার্চ মাসে কুয়েতে ইরানি হামলায় ছয় জন এবং ইরাকে একটি রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরও ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আরেক মার্কিন সেনা প্রাণ হারান। চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিভিন্ন বিমান হামলায় প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

