ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাদ কমপ্লেক্সের অনুশীলনের মাঠ এখন অনেকটাই উৎসবমুখর। ডান্স মিউজিকের কানফাটা শব্দের মাঝে ফুটবলাররা গা গরম করছেন, আর ডাগআউটে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসছেন নতুন কোচ এনজো মারেসকা। পেপ গার্দিওলার রেখে যাওয়া সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে মারেসকা বেছে নিয়েছেন সুরের এক অভিনব পথ।
লেস্টার সিটি ও চেলসিতে সফল হওয়ার পর ইতিহাদে এসেও অনুশীলনে গানের প্রচলন বজায় রেখেছেন মারেসকা। তবে কৌশলগত নির্দেশনার সময় গান বন্ধ রাখা হয়। এই কৌশলের বিশেষ দিক হলো, গান বাছাইয়ের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে খোদ ফুটবলারদের। ডিফেন্ডার মাতেউস নুনেস জানিয়েছেন, অনুশীলনের আগে খেলোয়াড়রা এখন 'ডিজে' হওয়ার বিষয়টি ভীষণ উপভোগ করছেন।
মারেসকার এই কৌশলের পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান ও মনস্তাত্ত্বিক যুক্তি। জার্মানির হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুতগতির ইলেকট্রনিক মিউজিক ফুটবলারদের পাসিং, সময়জ্ঞান এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। স্পোর্টস সাইকোলজিস্টদের মতে, ফুটবল অনেক সময় রোবোটিক হয়ে পড়ে, আর সংগীত খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ কমিয়ে আনন্দ ফিরিয়ে আনে।
নতুন এই পদ্ধতির ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাঠের পারফরম্যান্সেও। নতুন মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম চার ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়েছে সিটি। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ এবং লিগ কাপে নরউইচ সিটিকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে দলটি।
খেলোয়াড় ক্যারিয়ারে কার্লো আনচেলত্তি ও মার্সেলো লিপির মতো কিংবদন্তি কোচের অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে খেলোয়াড়দের মন বোঝার এই কৌশল শিখেছেন মারেসকা। খেলোয়াড় থাকাকালীন শাওয়ারের নিচে ইতালীয় পপ গান গেয়ে সতীর্থদের প্রিয় হয়ে ওঠা মারেসকা এখন গানের সুরকেই সিটিকে জয়ের ধারায় রাখার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলনের মাঝে এই ছোট স্বাধীনতা খেলোয়াড়দের দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করতে সাহায্য করছে, যা কোচের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে।

