কেকের স্বাদ কেবল জিভেই লেগে থাকে না, তা জড়িয়ে থাকে জীবনের নানা স্মৃতি, আনন্দ আর আবেগের সাথে। সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ২৭ জন লেখক শুনিয়েছেন তাদের জীবনের সবচেয়ে সেরা কেক খাওয়ার বা তৈরির গল্প। চকোলেটের স্বর্গীয় স্বাদ থেকে শুরু করে হ্যারি পটারের সর্টিং হ্যাট কিংবা বইয়ের আদলে তৈরি স্পঞ্জ কেক—এই তালিকায় রয়েছে হরেক রকমের বেকিংয়ের অভিজ্ঞতা।
ক্যাথরিন শোর্ড তার ছেলের হ্যারি পটার থিম পার্টির জন্য একটি 'সর্টিং হ্যাট' স্পঞ্জ কেক তৈরি করেছিলেন। বাটারক্রিম এবং টিনজাত ম্যান্ডারিন কমলার স্লাইস দিয়ে তৈরি এই কেকটি দেখতে এতটাই অদ্ভুত হয়েছিল যে সবাই এটিকে 'পুই ইমোজি' (মল ইমোজি) ভেবে ভুল করেছিল। অন্যদিকে, হলি রিচার্ডসন তার ৩৫তম জন্মদিনে মারি আঁতোয়ানেতের স্টাইলের একটি কেক পেয়েছিলেন লন্ডনের লিলি ভ্যানিলি বেকারি থেকে। হালকা নীল রঙের কেকটির ভেতরে ছিল ভ্যানিলা স্পঞ্জ, রাস্পবেরি ও বাটারক্রিমের ফিলিং। রাতে প্রচুর প্রসেকো পানের পর তিনি কেকটিতে নিজের মুখ চেপে ধরে শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন। র্যাচেল ডিকসন ১৯৯২ সালে হ্যামলিন অল কালার কুক বুক উপহার পেয়েছিলেন। সেখানে মেরি বেরির রেসিপি দেখে ভিক্টোরিয়া স্যান্ডউইচ ও চকোলেট বাটন কেক তৈরির পর তিনি অড্রে এলিসের রেসিপিতে একটি অসাধারণ অরেঞ্জ ক্রিম গ্যাটো তৈরি করেন, যা দেখতে ও খেতে ছিল চমৎকার।
ভিভ গ্রসকোপের ৫১তম জন্মদিনে তার বন্ধু সিয়ান বিখ্যাত রন্ধনশিল্পী নাইজেলা লসনের রেসিপি অনুসরণ করে নাশপাতির সাথে পেস্তা ও গোলাপের একটি কেক বানিয়েছিলেন। ভোর ৭টায় বন্ধুদের সাথে কনকনে ঠান্ডায় সাঁতার কাটার পর তারা এই কেকটি উপভোগ করেন। অনিতা চৌধুরী তার বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বাফেটের জন্য আদা ও দারুচিনি স্বাদের একটি আইসড জিঞ্জারব্রেড কেক বেছে নিয়েছিলেন। সাধারণ কেটারিংয়ের কেক হলেও এটি ছিল অত্যন্ত সুস্বাদু ও নরম, যার ওপরে ছিল লেবুর আইসিং। মাদেভি ডেইলির মানসিক বিপর্যয়ের সময় তার এক বন্ধু (যিনি আগে কখনো বেকিং করেননি) তাকে চমকে দিয়ে একটি 'ফর্গ কেক' মিম-এর আদলে তৈরি ভিক্টোরিয়া স্পঞ্জ কেক উপহার দেন, যা তার মনে গভীর রেখাপাত করেছিল।
ইভন ল্যাম ছোটবেলায় কেক পছন্দ করতেন না, কারণ তার খালা-ফুপুরা ফ্যাট কমানোর জন্য কেকের ক্রিম ফেলে দিতেন। তবে সিডনির লুইশামের 'ক্যাফে লুই'-এ তার স্বামীসহ চকোলেট স্পঞ্জ, রাস্পবেরি কার্ড ও সুইস মেরিঙ্গু বাটারক্রিমের একটি ভিন্টেজ কেক খেয়ে তার ধারণা বদলে যায়। জোয়েল স্নাইপ তার ছেলের জন্মদিনে ভিডিও গেমের চরিত্র 'কার্বি'র আদলে একটি ভিক্টোরিয়া স্পঞ্জ কেক সাজিয়েছিলেন। রিচ পেলি ছোটবেলায় তার মায়ের বানানো চকোলেট হেজহগ কেক খুব পছন্দ করতেন। দীর্ঘ ৩০ বছর পর তিনি তার মাকে মিথ্যা বলেন যে গার্ডিয়ানের সাংবাদিকদের জন্য মায়ের বানানো কেক খাওয়া বাধ্যতামূলক! মা বিশ্বাস করে তাকে আবার সেই কেক বানিয়ে দেন।
লুসি নাইট ২০০০ সালের এপ্রিলে নেপালে তার দাদা-দাদীর কাছে চতুর্থ জন্মদিন কাটাতে গিয়ে তিনটি জন্মদিনের কেক পেয়েছিলেন—হোটেল থেকে একটি, দাদা-দাদীর কাছ থেকে একটি এবং বাড়ি ফিরে মায়ের কাছ থেকে আরেকটি। অ্যান লি তার বন্ধু আনাস্তাসিয়ার জন্মদিনে একটি নিরামিষাশী (ভেগান) চকোলেট কেক খেয়েছিলেন। নাইজেলার রেসিপিতে তৈরি ফুল ও স্ট্রবেরি দিয়ে সাজানো এই কেকটি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট অ্যানের জন্য ছিল এক পরম তৃপ্তি। জর্জি ওয়ায়াট ১৬ বছর বয়সে ওয়েস্টমিনস্টারে এক স্কুল ট্রিপে ক্যাফে নিরো থেকে একটি লেমন ড্রিজল কেক কিনে খেয়েছিলেন, যার স্বাদ তিনি আজও ভোলেননি。
এস্থার গোমেজ স্পেনের একটি ঐতিহ্যবাহী নো-বেক কেকের কথা জানান, যা বিস্কুট, ভ্যানিলা কাস্টার্ড ও চকোলেট গ্যানাশ দিয়ে তৈরি করা হয়। ফ্রান্সিস রায়ান তার দ্বিতীয় বই 'হু ওয়ান্টস নরমাল?'-এর প্রকাশের পর তার মায়ের কাছ থেকে ঠিক বইটির আদলে তৈরি একটি কেক উপহার পেয়েছিলেন। এমিলি রেটারের আড়াই বছর বয়সের প্রথম স্মৃতি হলো একটি ব্ল্যাক ফরেস্ট গ্যাটো কেক, যা একটি ডেজার্ট ট্রলিতে রাখা ছিল।
গ্যাব্রিয়েল স্টুয়ার্ট ভ্যাঙ্কুভারের লেবানিজ রেস্তোরাঁ 'নুবা'-তে কাজ করার সময় একটি বাকলাভা চিজকেক খেয়েছিলেন, যার রেসিপির জন্য তিনি আজও অপেক্ষা করছেন। পলা কোকোজা ছোটবেলায় তার মায়ের বানানো চা দিয়ে ভেজানো কিশমিশ ও সুলতানার তৈরি টি-লোফ কেকের স্মৃতিকাতরতায় ভোগেন। লানা ক্রো তার ২৬তম জন্মদিনে তার বন্ধুর কাছ থেকে একটি ডেইরি-মুক্ত ভেগান নারকেল ক্রিমের কেক উপহার পেয়েছিলেন, যা তার পরিবারের সবাই এখনো মনে রেখেছে।
এমিন সানের ১২ বছর বয়সে তার বাবার সাথে সালজবার্গের একটি ঐতিহ্যবাহী ক্যাফেতে গিয়ে ট্রলি থেকে ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক বেছে নেওয়ার রোমাঞ্চকর স্মৃতির কথা জানান। লিয়া হার্পার ছোটবেলায় তার মায়ের কাছে একটি মারমেইড (মৎস্যকন্যা) কেক চেয়েছিলেন, যাতে একটি আরিয়েল পুতুল বসানো ছিল। এমা এলসওয়ার্দি সান সেবাস্তিয়ানের 'লা ভিনিয়া' রেস্তোরাঁয় গিয়ে বিখ্যাত বাস্ক চিজকেক খেয়েছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত নরম ও সুস্বাদু।
লুই স্ট্যাপলস তার বন্ধু অ্যালিক্সের কাছ থেকে নাইজেলা লসনের চকোলেট গিনেস কেক উপহার পেয়েছিলেন, যা দেখতে হুবহু এক গ্লাস গিনেস বিয়ারের মতো ছিল। এমা বেডিংটন ১৯৭০-এর দশকে ইয়র্কের বেটিস টি-রুমের বিখ্যাত কুকুর-আকৃতির 'ডুগাল' কেকের স্বাদ এখনো মনে রেখেছেন। কিরান ইও দক্ষিণ লন্ডনের বালহামের 'মিল্ক' ক্যাফেতে গ্রিলড ব্যানানা কেক খেয়েছিলেন, যা হালভা ও পাম্পকিন সিড তাহিনির সাথে পরিবেশন করা হয়েছিল।
ড্যানিয়েল লাভেল ছোটবেলায় মায়ের চিনি-বিরোধী কঠোর শাসনের মাঝেও একবার ভুলবশত জন্মদিনের পার্টি মিস করার পর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্যাফেতে গিয়ে 'ডেথ বাই চকোলেট' কেক খেয়েছিলেন। ডেল বার্নিং সাওয়া তার সন্তানের জন্য ভিক্টোরিয়া স্যান্ডউইচ কেক তৈরি করেন, যা তিনি চকোলেটের গাছ ও মেরিঙ্গু মাশরুম দিয়ে সাজিয়েছিলেন। সবশেষে শার্লট স্মিথ ১৫ বছর বয়সে ডিউক অব এডিনবরা অ্যাওয়ার্ডের জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার সময় একটি লেমন ড্রিজল কেক তৈরি করে গোপনে খেয়েছিলেন, যার স্বাদ ছিল অসাধারণ।

