জুভেন্টাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিওভানি কার্নেভালি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, চ্যাম্পিয়নস লিগের যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা ক্লাবের জন্য এক বড় ধরণের 'রক্তক্ষয়ী' আর্থিক ক্ষতি। গত মৌসুমে সেরি আ-তে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করায় দলটি ইউরোপা লিগে জায়গা পায়, যা তাদের ট্রান্সফার মার্কেটের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলেছে।
ফেস্টিভ্যাল ডেলো স্পোর্ট ইভেন্টে কথা বলার সময় কার্নেভালি চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শীর্ষ চারে থাকা মানেই আর্থিক নিশ্চয়তা। তিনি জানান, এই বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ না থাকায় ক্লাবটি বড় লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। তার মতে, বর্তমান ফুটবল এখন ব্যবসার দিকে বেশি ঝুঁকেছে, যেখানে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা না থাকা মানেই বিশাল আর্থিক বিপর্যয়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শীর্ষ চারে থাকাই কেবল তাদের লক্ষ্য নয়, বরং জয় অর্জনই মূল উদ্দেশ্য। ক্লাবটি উয়েফার নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতামূলক থাকার চেষ্টা করছে এবং বাজারের সুযোগ বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
তরুণ খেলোয়াড়দের বিষয়ে কার্নেভালি জানান, জুভেন্টাসই প্রথম ক্লাব যারা সেরি সি-তে যুব দল বা 'নেক্সট জেন' গঠন করেছে। এখান থেকে নিয়মিত প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছে। আলজবেগোভিচের মতো প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়কে চেলসির কাছ থেকে দলে টানার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্রান্সফার মার্কেটের বর্তমান আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে অনেক খেলোয়াড়ই ইতালিয়ান ক্লাবের নাগালের বাইরে। তারা এমন খেলোয়াড় খুঁজছেন যারা ভবিষ্যতে ৭০-৮০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যে বিক্রি হতে পারে।
কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তিকে নিয়ে সমালোচনা ও আন্তোনিও কন্তের যোগ দেওয়ার গুঞ্জন সম্পর্কে কার্নেভালি বলেন, স্পালেত্তিকে তার সমর্থনের প্রয়োজন নেই। তিনি স্পালেত্তিকে অসাধারণ একজন কোচ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার প্রশিক্ষণের ধরন দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে। সেরি আ-তে এমন কোচের সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, কন্তে একজন বন্ধু এবং দুর্দান্ত কোচ হওয়া সত্ত্বেও তাকে ক্লাবে আনার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই এবং কখনোই ছিল না। তিনি মনে করেন, জুভেন্টাসে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, আর শক্ত ভিত ছাড়া কিছু গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এছাড়া আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগের গুঞ্জনকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

