প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার জানিয়েছেন যে তিনি ওয়াশিংটনের আরলিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজের কাছে একটি বিশাল তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে সেটিকে একটি 'শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমপ্লেক্সে' রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ অনুরোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই স্থাপনাটি আরলিংটন জাতীয় সমাধির কাছে একটি ট্রাফিক সার্কেলে নির্মাণ করার কথা ছিল। ২৫০ ফুট উঁচু এই তোরণটি গ্রানাইট পাথরে মোড়ানো এবং তিনটি সোনালি মূর্তি ও একটি পর্যবেক্ষণ ডেক দিয়ে সজ্জিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় এটি তোরণের পাশাপাশি একটি সামরিক কমপ্লেক্স হিসেবে কাজ করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এই কমপ্লেক্সটি বড় আকারের ড্রোন মজুদ এবং জরুরি প্রয়োজনে তা ব্যবহারের সক্ষমতা রাখবে। এছাড়া, এর ছাদ ও প্লাজা এলাকায় স্নাইপার মোতায়েন থাকবে এবং সেখানে প্রচুর পরিমাণে স্নাইপার গোলাবারুদ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের কোথাও এমন কোনো স্থাপনা নেই।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের ৫৯টি শীর্ষ শহর ও রাজধানীর মধ্যে কেবল ওয়াশিংটন ডি.সি.-তেই কোনো ট্রাম্পের মতো তোরণ নেই। তিনি এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তোরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই প্রকল্পটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ২৫০তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে, যা রাজধানীর স্থাপত্যশৈলীতে প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ছাপ রাখার একটি অংশ। তবে এই প্রকল্পের উচ্চতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এর উচ্চতা ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ এবং আরলিংটনের মধ্যে দৃষ্টিরেখায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া নিকটস্থ রোনাল্ড রিগান ওয়াশিংটন ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরের সন্নিকটে হওয়ায় বিমান চলাচলের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে, এই স্থাপনাটি বিমানবন্দরের বিমান চলাচলে কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না।

