শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের রূপান্তর কমিটি তাদের ঘরোয়া কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের ঘরোয়া ক্লাবের সংখ্যা ১৪ থেকে কমিয়ে ১০ করা হবে। সেই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে তিন দিনের পরিবর্তে চার দিনে উন্নীত করা হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এপ্রিল মাসে ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত এই কমিটি ২১ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা মাত্র দুই মাসের মধ্যে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)-এর জন্য একটি নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সরকার এটি সংসদে উত্থাপনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। জুলাই মাসে এডিনবরায় অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় এই সংবিধানের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হলেও, নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আইসিসি মিটিংয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না বলে জানানো হয়।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে এর আগে ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের স্বত্ব হারায় দেশটি, যা পরে ভারতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। নতুন এই সংবিধান আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে এবং এটি আইসিসি, শ্রীলঙ্কার জনগণ ও ক্রিকেট ভক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে কমিটি আশাবাদী।
ঘরোয়া সংস্কারের অংশ হিসেবে ১২টি ক্লাবকে দ্বিতীয় স্তরে রাখা হবে। কমিটির মতে, শীর্ষ স্তরে ক্লাবের সংখ্যা কমানো হলে সেরা খেলোয়াড়রা আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার সুযোগ পাবেন। এছাড়া স্কুল ক্রিকেট পুনর্গঠন এবং একটি সুশৃঙ্খল ক্যালেন্ডার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইসিসির সাবেক প্রধান কিউরেটর অ্যান্ডি অ্যাটকিনসকে দিয়ে নতুন জাতীয় কিউরেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ভেন্যুর সব কিউরেটরকে এসএলসির সরাসরি অধীনে আনা হয়েছে। এছাড়া কোচিং কাঠামো পুনর্গঠনে অ্যাশলি রসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং স্কুল পর্যায় থেকে আম্পায়ারিং মান বাড়াতে লিন্ডন হ্যানিবল ও রুচিরা পলিয়াগুরুগেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. অ্যালেক্স কাউন্টুরিস ক্রীড়া চিকিৎসাবিষয়ক পুনর্গঠনের দায়িত্বে আছেন এবং পুরুষ দলের সাথে একজন ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানী যুক্ত হয়েছেন।
নারী ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব বাড়াতে মিডিয়া ও কমিউনিকেশন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিটি জানিয়েছে, অতীতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্লাব ও কর্মচারীদের বিষয়টিও তারা গুরুত্বের সাথে দেখছে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় আইনি লড়াই বন্ধ করা, পরামর্শক কমানো এবং অতিরিক্ত বড় কোচিং কাঠামো ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে আর্থিক অপচয় রোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড।

