নেপাল কর্তৃপক্ষ আগস্ট মাসে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার পর তাদের পরিচালিত উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট বিশাল ধ্বংসাবশেষ ও কাদার স্রোত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, যার ফলে অসংখ্য ভবন ও অবকাঠামো ধসে পড়ে।
জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের প্রধান ফণীন্দ্র পাউডেল জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা উদ্ধার অভিযানের পরিবর্তে পুনর্বাসন পর্যায়ে মনোনিবেশ করছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য বীমা, ব্যাংকিং ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের মৃত ঘোষণা করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি জানিয়েছেন, সক্রিয়ভাবে মৃতদেহ খোঁজা বন্ধ করা হলেও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার সময় কোনো দেহ পাওয়া গেলে তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্যোগের ছয় সপ্তাহ পরও অন্তত ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পরপরই প্রায় ১৩,৮০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে নয় দিন পর দুজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাও রয়েছে। অনেক মৃতদেহ শনাক্ত করার মতো অবস্থায় না থাকায় কর্তৃপক্ষ সেগুলোর ডিএনএ সংগ্রহ করে সমাহিত করেছে, যাতে ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের শনাক্ত করতে পারেন।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, নেপালের লাংটাং ন্যাশনাল পার্কে হিমবাহ ধসের কারণেই এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। এই ধসের ফলে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান শক্তি উৎপন্ন হয়েছিল এবং ধ্বংসাবশেষ প্রায় ৬০ মাইলেরও বেশি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

