প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের সরকারি ব্যয় বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ এটিই দ্বিতীয়বার, যা নিয়ে উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং অনেকে একে আইনবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মাধ্যমে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও অন্যান্য অভিবাসীদের সহায়তার জন্য নির্ধারিত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের ব্যয় বাতিল করছে। এছাড়া অভিবাসী ও অ-নাগরিকদের সহায়তার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার, 'ওক ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন' অনুদান ও ফেলোশিপের ৭০ মিলিয়ন ডলার এবং আবাসন ও নগর উন্নয়ন কর্মসূচির ৫৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ও বাতিল করা হয়েছে।
এই ব্যয় বাতিলের জন্য প্রশাসন 'পকেট রিসিশন' নামক একটি বিতর্কিত কৌশল ব্যবহার করছে। এই প্রক্রিয়ায় অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে অবহিত করেন যে তিনি আইনপ্রণেতাদের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে ইচ্ছুক নন। ইমপাউন্ডমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট অনুযায়ী, বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট অর্থ বাতিলের প্রস্তাব দিতে পারেন এবং কংগ্রেসের কাছে তা অনুমোদনের জন্য ৪৫ দিন সময় থাকে। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগে এমন প্রস্তাব দেওয়া হলে তা কার্যকরভাবে আটকে যায়। আগামী বুধবার বর্তমান অর্থবছর শেষ হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্যমতে, আমেরিকান নাগরিকদের উপকারে আসে না এমন ক্ষতিকর ও অপচয়মূলক সরকারি ব্যয় রোধ করতেই প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন একই কৌশল অবলম্বন করে ৪.৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা তহবিল বাতিল করেছিল। ১৯৭৭ সালে কার্টার প্রশাসনের পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম ঘটনা।
এদিকে, আইনপ্রণেতাদের কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা বা পরামর্শ ছাড়াই ৮১০ মিলিয়ন ডলারের ব্যয় বাতিলের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট অফিস কয়েক মাস ধরে এই অর্থ আটকে রেখেছিল যাতে আইন অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে অনুমোদিত এই তহবিল বাতিল করা যায়। কলিন্স আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি জবাবদিহিতা কার্যালয় (জিএও) পকেট রিসিশনকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে। তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তহবিল বাতিলের যে কোনো প্রচেষ্টা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তিনি এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের নিয়ে কাজ করবেন।
হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রোজা ডেলোরো অভিযোগ করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় দেশের বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অর্থ চুরির চেষ্টা করছে। গত বছর বৈদেশিক সহায়তা তহবিল বাতিলের বিষয়টি আদালতে গড়ালেও সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টকে বৈদেশিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করে প্রশাসনকে তহবিল বাতিলের সুযোগ দিয়েছিল, যদিও সেটির চূড়ান্ত কোনো আইনি ফয়সালা হয়নি।

