আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) দীর্ঘ আট মাস কাটানোর পর নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তিন নভোচারী। রোববার কাজাখস্তানের বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিতে (স্টেপস অঞ্চল) তাদের বহনকারী মহাকাশযানটি অবতরণ করে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারী ক্রিস উইলিয়ামস এবং রুশ মহাকাশচারী সের্গেই কুদ-সাভারচকভ ও সের্গেই মিকায়েভকে বহনকারী সয়ুজ এমএস-২৮ (Soyuz MS-28) ক্যাপসুলটি প্যারাশুটের সাহায্যে কাজাখস্তানের জেজগাজগান শহরের দক্ষিণ-পূর্বে নির্ধারিত এলাকায় সফলভাবে অবতরণ করে। মহাকাশে ২৪১ দিনের এই দীর্ঘ অভিযানটি ছিল উইলিয়ামস এবং মিকায়েভের জন্য প্রথম এবং কুদ-সাভারচকভের জন্য দ্বিতীয় মহাকাশ মিশন।
অবতরণের পর এই নভোচারী দলকে প্রথমে হেলিকপ্টারে করে কারাগান্ডা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে নাসা নভোচারী ক্রিস উইলিয়ামস হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে ফেরার জন্য বিমানে চড়বেন। অন্যদিকে, রুশ নভোচারী কুদ-সাভারচকভ এবং মিকায়েভ মস্কোর উপকণ্ঠে অবস্থিত তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্টার সিটিতে যাওয়ার জন্য ফ্লাইটে উঠবেন।
স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় চরম প্রতিদ্বন্দ্বী থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ স্টেশন এবং অন্যান্য প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযানের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হলেও, মহাকাশ গবেষণায় তাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। উভয় দেশের নভোচারীরা একে অপরের মহাকাশযানে চড়ে মহাকাশ স্টেশনে যাতায়াত করছেন।
এর আগে গত ১৪ জুলাই কাজাখস্তানের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে আরেকটি অভিযানে নাসার নভোচারী অনিল মেনন এবং রসকসমসের নভোচারী পিওত্র দুব্রভ ও আন্না কিকিনা আট মাসের মিশনের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছান। দীর্ঘ আট বছরের মধ্যে নাসার কোনো প্রধান হিসেবে প্রথমবার বাইকোনুর সফর করে এই উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানটি সশরীরে প্রত্যক্ষ করেন নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান।
নতুন আগমনকারী এই তিন নভোচারী বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত নাসা নভোচারী জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) নভোচারী সোফি অ্যাডেনট এবং রসকসমসের নভোচারী আন্দ্রেই ফেদিয়ায়েভের সাথে 'এক্সপেডিশন ৭৫'-এর অংশ হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

