ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারলেও এই সফরটিকে নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রকৃত অবস্থান বোঝার একটি "ভালো পরিমাপক" হিসেবে দেখছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) আর্থিক সংকট এবং খেলোয়াড়দের বেতন কাটার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিরিজ খেলেছে ক্যারিবীয়রা।
সম্প্রতি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের রিটেইনার ফি ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেয়, যা বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) "আদর্শ নয়, তবে প্রয়োজনীয়" বলে উল্লেখ করেছিলেন। নতুন চণ্ডীগড়ে তৃতীয় ওয়ানডের আগে ড্যারেন স্যামি ব্যাখ্যা করেন যে, এই আর্থিক সংকটের কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। তিনি বলেন, "যদি কোনো ব্যবসা আর্থিকভাবে ভালো না চলে, তবে তা টিকিয়ে রাখার পথ খুঁজতে হয়। আমি 'আব্রাকাডাব্রা' বললেই তো আর বড় কোনো তহবিল চলে আসবে না, যা দিয়ে খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করা যাবে যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখিই আমরা হচ্ছি।"
তবে এই প্রতিকূল সময়েও খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে তিনি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলোকে বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। স্যামি জানান, তিনি খেলোয়াড়দের বলেছিলেন যে ভারতের মতো বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে পারফর্ম করতে পারলে তা দলগত এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেক বড় সুযোগ ও আর্থিক সুবিধা বয়ে আনবে।
গত দুই-আড়াই বছরে ঘরের মাঠে নিজেদের দুর্গ গড়ে তুললেও বিদেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে রেকর্ড বেশ দুর্বল। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে তারা মাত্র ৪টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল, তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে টানা তিনটি হোম সিরিজ জেতে ক্যারিবীয়রা। বিপরীতে, ২০০২ সালের পর ভারতের মাটিতে ভারতকে ওয়ানডেতে হারাতে পারেনি তারা। এমনকি ২০১৯ সালে ভারতের মাটিতে আফগানিস্তান এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশকে হারানোর পর ঘরের মাঠের বাইরে আর কোনো পূর্ণ সদস্য দেশকে ওয়ানডেতে হারাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ব্যাটিংয়ে লড়াই করলেও নিষ্প্রাণ পিচে বোলাররা শুভমান গিল ও রোহিত শর্মার মতো ভারতীয় টপ-অর্ডারকে থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরের সুর মিলিয়ে স্যামিও এটিকে 'ব্যাটের বিপক্ষে ব্যাটের লড়াই' বলে অভিহিত করেন। বোলারদের লাইন ও লেন্থে আরও শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা আনার তাগিদ দেন তিনি।
ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক দিক থাকলেও বড় স্কোর গড়ার ক্ষেত্রে কিছু সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ রয়েছে স্যামির। গুয়াহাটির ওয়ানডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ৩০ ওভার শেষে স্কোর ২৩০-এর ঘরে থাকায় লক্ষ্য যেখানে ৪৫০ বা তার বেশি হওয়া উচিত ছিল, সেখানে ৪০ ওভার শেষে ৩২৯/৩ থাকা সত্ত্বেও শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৭০ রান তোলায় ইনিংসটি শেষ হয় ৪০৫/৭ রানে।
আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মধ্যে ১০ ধাপের ব্যবধান থাকার কথা উল্লেখ করে স্যামি বলেন, এক নম্বর দলের বিপক্ষে এই সিরিজটি ২০২৭ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতি এবং নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের দারুণ সুযোগ ছিল। ওয়ানডে পর্ব শেষে এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে চোখ রাখছে ক্যারিবীয় দল।

