ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক নেতো জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের পর জুভেন্টাসে ফিরে তিনি ক্লাবটির আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। তবে নতুন কোচ লুচিয়ানো স্পালেত্তির অধীনে প্রথমবার কাজ করতে গিয়ে তার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা।
গত সপ্তাহে জুভেন্টাসের নিয়মিত গোলরক্ষক কামিল গ্রাবারা হাঁটুর অ্যান্টিরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে গিয়ে পুরো মৌসুমের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান। তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত চোটের পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নেতোকে দলে ভেড়ায় ইতালিয়ান ক্লাবটি। এর মাধ্যমে তুরিনে প্রত্যাবর্তন ঘটল এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের, যিনি এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জুভেন্টাসের গোলপোস্ট সামলেছেন।
জুভেন্টাস থেকে ডাক পাওয়ার মুহূর্তটি স্মরণ করে নেতো বলেন, "যখন জুভের কাছ থেকে ফোন আসে, তখন আমার জীবনে প্রথমবারের মতো আমি বাড়িতে সময় উপভোগ করছিলাম, পরিবারকে সময় দিচ্ছিলাম। আমি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ডেভিস কাপ ম্যাচ দেখছিলাম। কিন্তু জুভেন্টাস যখন ডাকল, আমাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি।"
দীর্ঘদিন পর ফিরে আসায় খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগবে না বলে মনে করেন তিনি। তবে ক্লাবের অবকাঠামোগত পরিবর্তন তাকে অবাক করেছে। তিনি বলেন, "পরিচিত জায়গায় ফিরে আসার সুবিধা হলো মানিয়ে নিতে সময় লাগবে না। তবে আগে আমরা ভিনোভোতে অনুশীলন করতাম, তাই কন্টিনাসা ক্যাম্পটি আমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। তারা এখানে যা তৈরি করেছে তা সত্যিই অসাধারণ, এর পুরো কৃতিত্ব ক্লাবের প্রাপ্য।"
গত কয়েক বছর ধরেই ইতালিতে ফেরার ইচ্ছা ছিল বলে জানান আর্সেনাল ও বার্সেলোনার সাবেক এই গোলরক্ষক। নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত দাবি করে তিনি বলেন, "আমি এর আগে কখনো স্পালেত্তির সঙ্গে কাজ করিনি, তবে ইতিমধ্যে তার সান্নিধ্য আমার ওপর দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।"
নেতো যখন শেষবার জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন, তখন ক্লাবটি ছিল ইতালিয়ান ফুটবলের অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি। তবে ২০২০ সালের পর তারা আর স্কুডেত্তো (সিরি আ শিরোপা) জিততে পারেনি এবং চলতি মৌসুমে কেবল ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এ প্রসঙ্গে নেতো বলেন, "এটাই ফুটবল, এখানে পরিস্থিতি ও সময়ের পরিবর্তন ঘটে। তবে আমাদের দলটি শক্তিশালী। জুভেন্টাস যে ধরনের সাফল্য পেতে অভ্যস্ত, আমরা সেই ফলাফল অর্জন করতে পারব এবং এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে পারব।"
আন্তর্জাতিক বিরতির কারণে দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে ক্রেমোনেসের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল জুভেন্টাস। তবে ম্যাচটিতে তারা ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।

