যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রগতিশীল কংগ্রেস প্রার্থীদের উত্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। রোববার (২৬ জুলাই) ‘ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। স্যান্ডার্স মনে করেন, এই প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন তৃণমূল পর্যায়ের উত্তেজনা ও উদ্দীপনা এবং দেশজুড়ে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকেই ফুটিয়ে তুলছে।
সাক্ষাৎকারে ভার্মন্টের এই সিনেটর বলেন, “মিশিগান, মিনেসোটা, ভার্মন্ট বা এই দেশের যেকোনো জায়গাই হোক না কেন… জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত করছে যে মানুষ বর্তমান স্থিতাবস্থায় চরম বিরক্ত ও ক্লান্ত।” তিনি বিশেষভাবে মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদ এবং মিনেসোটার লেফটন্যান্ট গভর্নর পেগি ফ্ল্যানাগানের নাম উল্লেখ করেন, যিনিও মার্কিন সিনেট আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী আগস্ট মাসে এই দুই প্রার্থীরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রগতিশীল প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও নির্বাচনে ‘ধনকুবেরদের’ বিপুল অর্থ ঢালার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, এস্টাবলিশমেন্ট বা ঐতিহ্যপন্থী প্রার্থীদের রক্ষা করতে নির্বাচনে অবিশ্বাস্য পরিমাণের অর্থ খরচ করা হচ্ছে। মিশিগানের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেখানে মডারেট ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সের বিরুদ্ধে লড়া আব্দুল আল-সায়েদের বিপক্ষে সুপার প্যাকগুলো (Super PACs) প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করছে। উল্লেখ্য, স্টিভেন্স ২০১৯ সাল থেকে মিশিগানের ১১তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে মিনেসোটায় অবসরপ্রাপ্ত সিনেটর টিনা স্মিথের আসনের জন্য ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাঞ্জি ক্রেগ এবং পেগি ফ্ল্যানাগান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে বিভাজন নিয়ে ডেমোক্র্যাট নেতা রাম ইমানুয়েলের সাম্প্রতিক এক সমালোচনার জবাবও দেন স্যান্ডার্স। ইমানুয়েল সতর্ক করেছিলেন যে প্রগতিশীল সমর্থকরা উগ্র-বামপন্থী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভোট ভাগ করে দিচ্ছেন, যার ফলে রিপাবলিকানরা জয়ী হতে পারে। এর জবাবে স্যান্ডার্স বলেন, “ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে তীব্র বিভাজন রয়েছে—এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু আসল কথা হলো, আমরা সারা দেশে জয়ী হচ্ছি। মানুষ রাম ইমানুয়েল বা ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান এস্টাবলিশমেন্টের ওপর চরম বিরক্ত।” তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ রিপাবলিকান ভোটাররাও প্রগতিশীল প্রার্থীদের ভোট দেবেন, কারণ তারা সন্তানদের কলেজে পাঠাতে পারেন না এবং ভালো অবসরকালীন জীবনযাপনের সামর্থ্যও তাদের নেই।
সাক্ষাৎকারে মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন স্যান্ডার্স। সেখানে প্রগতিশীল প্রার্থী গ্রাহাম প্ল্যাটনারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর তিনি প্রচারণা স্থগিত করেন। ডেমোক্র্যাটরা তার পরিবর্তে ট্রয় জ্যাকসনকে মনোনীত করেছে। প্ল্যাটনারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য অনুতপ্ত কি না জানতে চাইলে স্যান্ডার্স বলেন, তিনি অনুতপ্ত নন। অভিযোগ শোনার পর তিনি প্ল্যাটনারের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন এবং সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিলেন, যা প্ল্যাটনার মেনে নিয়েছেন।
স্যান্ডার্স সমর্থিত প্রার্থীরা সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই (ভেটিং) করা কি না—সঞ্চালক মার্গারেটের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কারা ‘সম্পূর্ণ যাচাইকৃত’ তা আমি জানি না। আমি শুধু জানি, আমরা যাদের সমর্থন করছি তারা এই দেশের শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।” মেইনের নতুন প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও জ্যাকসন ভোটারদের মন জয় করতে পারবেন এবং তার জয়ের চমৎকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্যান্ডার্স বলেন, “মেইনের মানুষ বোঝে যে এই অর্থনীতি ধনকুবেরদের স্বার্থে সাজানো, যেখানে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে এবং ৬০ শতাংশ মানুষ কোনোমতে দিনাতিপাত করছে।”

