সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার এক বিবৃতিতে গোলান হাইটসের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর খননকাজ ও সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দামেস্ক এই কার্যক্রমকে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছেদ চুক্তির একটি ‘চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় কুনেইত্রা প্রদেশের আল-আশা গ্রামের পশ্চিমে ইসরায়েলি বাহিনী এই খনন প্রকল্প পুনরায় শুরু করেছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘সোফা ৫৩’ বা ‘গ্রেট স্টর্ম’ নামে পরিচিত।
সিরিয়ার আল-ইখবারিয়া টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় বিচ্ছেদ রেখার বাফার জোনের ভেতরে একটি সামরিক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কুনেইত্রার উত্তরাঞ্চলীয় হেদার এলাকা থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে জাবাতা আল-খাশাব, আল-হামিদিয়াহ, আল-কাহতানিয়াহ, রুয়েইহিনা, বির আজাম এবং বারিকা হয়ে আল-আশা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই সড়কটি সিরিয়া, জর্ডান এবং ইসরায়েলি সীমান্তের মিলনস্থল পর্যন্ত প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় ৮ মিটার প্রশস্ত এই সামরিক সড়কের দুই পাশে ৫ মিটার উঁচু মাটির বাঁধ তৈরি করেছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতি রেখার পাশে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ চৌকি ও সামরিক অবস্থান স্থাপন করা হয়েছে। সিরিয়ার ভাষ্যমতে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি রেখা থেকে ৩০০ থেকে ১,০০০ মিটার পর্যন্ত ভেতরে ঢুকে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদের পতনের পর এই সামরিক নির্মাণকাজ আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের বিস্তৃতির ফলে কুনেইত্রার গ্রামীণ এলাকার হাজার হাজার ডুনাম কৃষি জমি চাষাবাদ ও গবাদি পশুর চারণের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এটি এলাকার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য পরিবর্তন করছে। গত ৮ ডিসেম্বর আসাদের পতনের পর থেকে ইসরায়েল গোলান বাফার জোন এবং এর নিকটবর্তী এলাকায় তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও অনুপ্রবেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, সিরিয়া তার ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল তাদের এই সামরিক পদক্ষেপগুলোকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিবেচনার অংশ বলে দাবি করে আসছে।

