স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯ নভেম্বর দেশটিতে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আবাসন খাত সংস্কারের জন্য তার সরকারের আনা দুটি ডিক্রি আইন পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ভাড়ার বাজারে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার লক্ষ্যে এই আইনগুলো প্রণয়ন করতে চেয়েছিল সংখ্যালঘু সরকার, কিন্তু সপ্তাহান্তের দিকে পার্লামেন্টে সেগুলো বাতিল হয়ে যায়।
আবাসন সংকট নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষের মধ্যেই এমন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলো। সম্প্রতি ৮৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দেয়, যা আবাসন সংস্কারের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে। সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে সানচেজ জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো এগিয়ে নিতে তার এমন একটি “বৃহত্তর প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা” প্রয়োজন, যা “অভিজাতদের প্রতিরোধ” মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।
সানচেজ অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, তার সরকার সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমরা ভুল করেছি এবং যা চেয়েছিলাম তার সবকিছু অর্জন করতে পারিনি। বিশেষ করে অসমতা, জনসেবা এবং আবাসনের ক্ষেত্রে এখনও অনেক সমস্যা সমাধানের বাকি রয়েছে।”
২০১৮ সালের জুন থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সানচেজ। তার নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট সরকারে রয়েছে তার নিজস্ব সমাজতান্ত্রিক দল এবং কনিষ্ঠ শরিক দল সুমার জোট। তবে পার্লামেন্টে তাদের কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ২০২৩ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সত্ত্বেও ক্যাটালান ও বাস্ক জাতীয়তাবাদী ও স্বাধীনতা-পন্থী দলগুলোর সমর্থন নিয়ে তিনি ক্ষমতায় টিকে ছিলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সানচেজের সরকার দুর্নীতিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসন ইস্যুতেও চাপের মুখে রয়েছে। এদিকে, বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনেজ ফেইজো এই আগাম নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “অবশেষে স্পেনের জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।” ফেইজো এই নির্বাচনকে “পতন বা পরিবর্তন, মিথ্যা বা পরিবর্তন, অযোগ্যতা বা পরিবর্তন, বিভাজন বা পরিবর্তন, দুর্নীতি বা পরিবর্তন” এর মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বেশিরভাগ জনমত জরিপ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্বাচনে কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল পিপলস পার্টি বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকার গঠন করতে হলে তাদের সম্ভবত কট্টর ডানপন্থী দল ভক্সের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে।

