রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বায়রন ডোনাল্ডস ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে জোর প্রচার শুরু করেছেন। দীর্ঘ ৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নিজের বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় সামনে না আনলেও, সম্প্রতি মিয়ামি এলাকায় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের লক্ষ্য করে আয়োজিত একাধিক অনুষ্ঠানে তাকে সক্রিয় দেখা গেছে। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এবার কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অন্তত ২০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তিনি।
তুলনা হিসেবে দেখা গেছে, ২০২২ সালে ফ্লোরিডার বর্তমান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মাত্র ১৩ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের সমর্থন পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় প্রায় ১৫ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ভোট পেয়েছিলেন। ডোনাল্ডস মনে করেন, কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা এখন আর কেবল ডেমোক্র্যাট দলের প্রতি একমুখী আনুগত্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছেন না। তারা ফ্লোরিডাকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে টেক্সাসের কংগ্রেস সদস্য ওয়েসলি হান্টের সাথে দেশজুড়ে প্রচার চালিয়েছিলেন ডোনাল্ডস। "কংগ্রেস, সিগার অ্যান্ড কগনাক" শিরোনামের সেই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা সভাগুলোর কৌশল এবার তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারেও ব্যবহার করছেন। এই নির্বাচনে জয়ী হলে মার্কিন ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর হিসেবে ইতিহাস গড়বেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হতে পেরেছেন।
গত শনিবার মিয়ামির 'ব্ল্যাক প্রফেশনালস সামিট'-এর 'লেগাসি কন'-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় ডোনাল্ডস বলেন, তিনি প্রচারে নিজের বর্ণ নিয়ে কথা বলেন না। তার মতে, ফ্লোরিডা একটি যোগ্যতার জায়গা এবং ভোটাররা কেবল দেখতে চান কে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। এই সম্মেলনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড জলিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে সময়ের সংকটের কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।
তবে ডোনাল্ডসের এই প্রচারণায় সব ভোটার সন্তুষ্ট নন। মিয়ামি গার্ডেনসের একটি কৃষ্ণাঙ্গ মালিকানাধীন রেস্তোরাঁয় ডোনাল্ডসের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর জার্মেইন উডসাইড নামের এক ভোটার জানান, ডোনাল্ডসের প্রতি তার সংশয় কিছুটা কাটলেও ট্রাম্পের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তাকে ভাবিয়ে তুলছে। উডসাইড মনে করেন, ট্রাম্পের সাথে সংশ্লিষ্টতা ডোনাল্ডসের ক্ষতি করতে পারে। এর জবাবে ডোনাল্ডস বলেন, ট্রাম্প তাকে সমর্থন দিয়েছেন ঠিকই, তবে ভোটারদের উচিত তার নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও উন্নয়নমূলক এজেন্ডার ভিত্তিতে তাকে মূল্যায়ন করা।
অন্যদিকে, ওভারটাউন এলাকায় ডোনাল্ডসের একটি অনুষ্ঠানে কেলিন জেমস নামের এক মিয়ামি বাসিন্দা "ভোট ব্লু" লেখা ব্যানার নিয়ে মৌন প্রতিবাদ জানান। জেমস বলেন, ডোনাল্ডস ইতিহাস গড়তে পারেন, তবে তিনি ইতিহাসের ভুল পক্ষে থাকবেন। অদলীয় ভোটার অধিকার রক্ষা সংস্থা 'ইকুয়াল গ্রাউন্ড'-এর প্রতিষ্ঠাতা জেসমিন বার্নি-ক্লার্কও ডোনাল্ডসের এই প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করতেই ডোনাল্ডস এই লোকদেখানো কৌশল ব্যবহার করছেন।
ফ্লোরিডায় ১৯৯০ সালের পর থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী গভর্নর পদে জয়ী হতে পারেননি। তবে সাম্প্রতিক জরিপগুলো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ব্যবধান কমাতে পারলে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

