যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত এই ২০২৬ সালের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ভার্মন্ট সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে। ম্যাসাচুসেটস এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ওয়ালেটহাবের এই বিশ্লেষণে মোট ৫২টি মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে, যা পাঁচটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত ও আবাসিক নিরাপত্তা, আর্থিক নিরাপত্তা, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে সামগ্রিক স্কোর দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ পাঁচটি নিরাপদ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ভার্মন্ট ও ম্যাসাচুসেটসের পাশাপাশি রয়েছে মেইন, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং কানেকটিকাট।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে প্রতি ১০ কোটি মাইল গাড়ি চালনার বিপরীতে ট্রাফিক দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে কম। মেইন অঙ্গরাজ্যে গণগুলি ও গুরুতর হামলার ঘটনা সবচেয়ে কম রেকর্ড করা হয়েছে। আর্থিক নিরাপত্তার দিক থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ার প্রথম এবং সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইউটা শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।
তালিকায় সবচেয়ে নিচের দিকে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সবার শেষে রয়েছে মিসিসিপি। এর পরের অবস্থানে আছে লুইজিয়ানা, টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং আরকানসাস। মিসিসিপি আর্থিক, সড়ক, কর্মক্ষেত্র এবং জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ৫০তম অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে লুইজিয়ানা আর্থিক ও জরুরি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ৪৯তম, টেক্সাস জরুরি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ৪৮তম এবং ফ্লোরিডা একই ক্যাটাগরিতে ৪৭তম স্থানে রয়েছে।
গবেষণায় ব্যক্তিগত ও আবাসিক নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা মোট স্কোরের ৪০ পয়েন্ট বহন করে। বাকি চারটি বিভাগ অর্থাৎ আর্থিক, সড়ক, কর্মক্ষেত্র এবং জরুরি নিরাপত্তা প্রতিটি ১৫ পয়েন্ট করে অবদান রেখেছে। ট্রাফিক দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি মিসিসিপিতে। অন্যদিকে, নিউ জার্সি, ওয়াইমিং এবং লুইজিয়ানায় মাথাপিছু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো জানিয়েছেন, শীর্ষস্থানীয় অঙ্গরাজ্যগুলো অপরাধ প্রতিরোধ, নিরাপদ রাস্তা, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির মাধ্যমে তাদের বাসিন্দাদের বহুমুখী উপায়ে সুরক্ষা প্রদান করে।

