মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্পের যুক্তি নিয়ে মার্কিন বিচারকের প্রশ্ন

হোয়াইট হাউজে তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক। সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো-র সাংবাদিকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ টিমোথি কেলি বৃহস্পতিবার এক শুনানিতে মার্কিন বিচার বিভাগকে (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট) তীব্র জেরার মুখে ফেলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং আদালতে সরকারের দেওয়া যুক্তি কেন ভিন্ন হচ্ছে। ট্রাম্পের নিজের নিয়োগ দেওয়া এই বিচারক মন্তব্য করেন, নথিপত্রে যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নিজে এক কথা বলেন আর আদালতে এসে সরকার অন্য কথা বলে, তখন সেই যুক্তি প্রমাণ করা সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

গত মাসে বিচারক কেলির দেওয়া একটি সাময়িক আদেশের প্রায় ১২ (12) ঘণ্টা পর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউজ কমপ্লেক্সে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পান এবং তাদের প্রেস ক্রেডেনশিয়াল ফেরত পান। সেই আদেশের মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিচারক তা আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। ওই দিন বা তার আগেই তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (প্রিলিমিনারি ইনজাঙ্কশন) আবেদনের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

শুনানিতে সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষে আইনজীবী টেড বুট্রোস যুক্তি দেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তিন প্রতিষ্ঠানের মোট ৭৮ জন অ্যাক্রেডিটেড সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন এবং তার অপছন্দের রিপোর্টিংয়ের কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বুট্রোস একে প্রথম সংশোধনী (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট) ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) লঙ্ঘনের শামিল বলে উল্লেখ করেন। সাময়িক আদেশের পরও হোয়াইট হাউজ সিএনএন ও পলিটিকো-র সাংবাদিকদের ওভাল অফিস এবং এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, যা গণমাধ্যমের ওপর প্রতিশোধমূলক আচরণের প্রমাণ।

অনুরূপভাবে, বিচার বিভাগের সিনিয়র কাউন্সিল মাইকেল ভেলচিক দাবি করেন, হোয়াইট হাউজে প্রবেশ কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ। তিনি অভিযোগ করেন, এই সংবাদমাধ্যমগুলো ন্যূনতম পেশাদার সাংবাদিকতার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এমন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষ করে গোপন ও সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য প্রকাশ করা শিষ্টাচারের বড় লঙ্ঘন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বিচারক কেলি ২০২০ সালের একটি আপিল আদালতের রায়ের সূত্র ধরে বলেন, সাংবাদিকদের পাস বাতিলের আগে তাদের নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। বিচার বিভাগের জন্য এই আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের জবাব দেওয়া সবচেয়ে বড় বাধা হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি সরকারি আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা কি পেশাদারিত্বের লঙ্ঘন?

গত ২১ সেপ্টেম্বর সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো যৌথভাবে এই মামলাটি দায়ের করে। এর আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে "ভুয়া খবর" প্রচারের অভিযোগ এনে এই তিন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করেন এবং পরদিন সকালে সিক্রেট সার্ভিস তাদের পাস কেড়ে নেয়। পরে হোয়াইট হাউজ সংবাদমাধ্যমগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে ইরানের যুদ্ধ, হোয়াইট হাউজের নতুন বলরুম এবং রিপাবলিকান মিডটার্ম কনভেনশন নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। হোয়াইট হাউজ এই চিঠির জবাব দেওয়ার জন্য সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো-কে ২৫ (25) সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে তারা কেউই এর জবাব দেয়নি। তবে বিচারক কেলি বলেন, ওই প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত সাধারণ মানের ছিল এবং কিছু প্রতিবেদন কয়েক মাস আগের লেখা। তাছাড়া, অভিযুক্ত প্রতিবেদকদের অনেকের হোয়াইট হাউজের পাসই ছিল না।

টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে বলেন, "একের পর এক কেবল খারাপ খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। আমি মনে করি না যে এত ভালো কাজ করার পরও কাউকে প্রতিনিয়ত ভুয়া খবর ও নেতিবাচক প্রতিবেদন সহ্য করতে বাধ্য করা উচিত।" উল্লেখ্য, সিএনএন এবং সিবিএস নিউজ উভয়ই স্কাইড্যান্স-এর অংশ, যা প্যারামাউন্ট এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির একীভূতকরণের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।

শিরোনাম :
আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারে মুমূর্ষু শিশু, উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল পুলিশ কনোলি নাকি ম্যাডিনসন? প্রথম টেস্টের একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশায় অস্ট্রেলিয়া ইনজুরির মিছিলে নাপোলি, কৌশল বদলের ভাবনায় মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি কলেজ ফুটবল ২০২৬: জর্জিয়া-অ্যালাবামা মহারণ ও উইক ৬-এর ৫টি বড় প্রশ্ন অ্যান কারসনের নোবেল জয়ে মার্গারেট অ্যাটউডসহ প্রখ্যাত লেখকদের অভিনন্দন ও উচ্ছ্বাস ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: বাসে বোমা হামলায় নিহত অন্তত ৩০ রাঁচিতে জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় ভারত, ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্পের যুক্তি নিয়ে মার্কিন বিচারকের প্রশ্ন ইস্তাম্বুলে সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, আসাদ আমলের ৫ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারে মুমূর্ষু শিশু, উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল পুলিশ কনোলি নাকি ম্যাডিনসন? প্রথম টেস্টের একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশায় অস্ট্রেলিয়া ইনজুরির মিছিলে নাপোলি, কৌশল বদলের ভাবনায় মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি কলেজ ফুটবল ২০২৬: জর্জিয়া-অ্যালাবামা মহারণ ও উইক ৬-এর ৫টি বড় প্রশ্ন অ্যান কারসনের নোবেল জয়ে মার্গারেট অ্যাটউডসহ প্রখ্যাত লেখকদের অভিনন্দন ও উচ্ছ্বাস ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: বাসে বোমা হামলায় নিহত অন্তত ৩০ রাঁচিতে জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় ভারত, ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্পের যুক্তি নিয়ে মার্কিন বিচারকের প্রশ্ন ইস্তাম্বুলে সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, আসাদ আমলের ৫ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ