ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এবং সদরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন সরকারি প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত পাঠিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় খাল খনন কাজের বরাদ্দ থেকে এই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ হালান ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে খারদিয়া হয়ে শাহজাহান শেখের বাড়ি এবং কুমার নদী পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এবং মানিকদাহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প শুরু হয়েছিল। এই কাজের জন্য ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সময়ে সদরপুর উপজেলার চারটি খাল খননের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০৪ টাকা।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল জবি উল্লাহ এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম কাজের প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। তবে জুন ও জুলাই মাসে টানা অনাবৃষ্টির কারণে খালগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খনন কাজ ব্যাহত হয়। এর ফলে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান অব্যয়িত ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠান। স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল এই স্বচ্ছতার প্রশংসা করে একে জবাবদিহিমূলক সরকারের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

