আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনেই সেঞ্চুরির এক দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করলেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। শুক্রবার দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটার লাঞ্চের মাত্র ১৫ মিনিট আগে ৮৩ রান করে আউট হন। তার এই আক্ষেপের বিদায়ের পর বাংলাদেশ দলে যেমন আফসোস তৈরি হয়েছে, তেমনি তার মনোযোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচকরা।
এদিন টেস্টের প্রথম সেশনেই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তানজিদ। ২০১৯ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম সেশনে ৮৬ রান করেছিলেন তামিম ইকবাল। তানজিদ আজ সেই রেকর্ড স্পর্শ করার আগেই সাজঘরে ফেরেন। তানজিদের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। এই ইনিংসে সেঞ্চুরি করতে পারলে তিনি টেস্টের প্রথম দিনের লাঞ্চের আগেই সেঞ্চুরি করা অভিজাত ব্যাটারদের তালিকায় নাম লেখাতে পারতেন। এই তালিকায় রয়েছেন ভিক্টর ট্রাম্পার, চার্লস ম্যাকার্টনি, ডন ব্র্যাডম্যান, মজিদ খান, ডেভিড ওয়ার্নার এবং শিখর ধাওয়ানের মতো কিংবদন্তিরা। চলতি বছরের শুরুতে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তানজিদ, যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
তানজিদের এই বিদায়ের পেছনে আফগান অধিনায়ক রহমত শাহর একটি চতুর সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখে। তিনি উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলকে উইকেটের একদম কাছে নিয়ে আসেন। বোলার ইসমত আলম তানজিদকে অফ-স্টাম্পের বেশ বাইরে বল করেন, যা ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন এই ওপেনার। এই আউটের পর ক্রিকবাজের সাথে আলাপকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক নির্বাচক বলেন, "সে নিশ্চিতভাবেই একটি সেঞ্চুরি মিস করেছে। আমার মনে হয় ও লাঞ্চের আগেই সেঞ্চুরি করতে চেয়েছিল এবং মনোযোগ হারানোর মাশুল দিয়েছে। বিষয়টিতে আমরা খুব একটা সন্তুষ্ট নই। ক্রিকেটে যখন পরিস্থিতি আপনার পক্ষে থাকে, তখন সেটির সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে হয়।"
তানজিদের নান্দনিক ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করলেও নির্বাচক প্যানেলের ওই সদস্য মনে করেন তাকে আরও পরিণত হতে হবে। তিনি বলেন, "তার এই ইনিংসকে দুইভাবে দেখা যায়। এক, তার বিনোদনদায়ী ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করা; আর দুই, তাকে বোঝানো যে সে একটি বড় টেস্ট সেঞ্চুরির সুযোগ হারিয়েছে। কারণ তার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল এবং পুরো ইনিংসে সে বল ব্যাটের মাঝখান দিয়ে খেলছিল। সে যত দ্রুত নিজের উইকেটের মূল্য বুঝবে, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। তার প্রতিভা ও টেকনিক আছে, এখন শুধু একটু বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং প্রয়োজন।" নির্বাচক আরও যোগ করেন, তানজিদ উইকেটে যতক্ষণ ছিলেন তাকে একবারের জন্যও অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়নি এবং তিনি নিজে উইকেট বিলিয়ে না দিলে আফগান বোলারদের পক্ষে তাকে আউট করা সম্ভব ছিল না।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইকে দুটি চার মেরে ১৫ রান তুলে নিজের মারকুটে মেজাজের জানান দিয়েছিলেন তানজিদ। এরপর আহমদজাইকে কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মারার পর বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রহমানকে টানা দুই ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। আফগান বোলাররা তার স্ট্রোকের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইসমত ও আলিখিলের যৌথ প্রচেষ্টায় তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। তানজিদের বিদায়ের পর আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম ৬৭ রান করেন। দিনশেষে সাদমান বলেন, "আমাদের শুরুটা ভালো হয়েছিল, তবে এটি আরও ভালো হতে পারত। ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট খুবই চমৎকার ছিল। সকালে আমরা ভালো জুটি গড়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু বড় জুটির পর আমরা দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলি।"

