যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে পদ থেকে অপসারণের জন্য আবারও তৎপরতা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বন্ধকী ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা 'মিথ্যা তথ্য দেওয়ার' অভিযোগ তদন্তে হোয়াইট হাউসে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৫ নভেম্বর এই কমিটির অধীনে একটি সশরীরে শুনানির আয়োজন করা হবে।
এর আগে লিসা কুককে বরখাস্ত করার জন্য ট্রাম্পের নেওয়া একটি উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্ট আটকে দেয়। আদালত জানিয়েছিল, কুককে কোনো পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার কয়েক মাসের মাথায় ট্রাম্প নতুন করে এই পদক্ষেপ নিলেন। গত ৭ অক্টোবর দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, "প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইন যথাযথভাবে কার্যকর করা আমার দায়িত্ব। এর মধ্যে এমন অধীনস্থদের বরখাস্ত করাও অন্তর্ভুক্ত, যাদের সত্য বলা ও আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে বিশ্বাস করা যায় না।" হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিতব্য এই শুনানি সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা স্থায়ী হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের ১১৩ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টই কোনো ক্ষমতাসীন গভর্নরকে পদচ্যুত করতে পারেননি। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মুদ্রানীতি নির্ধারণকারী এই সংস্থাটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকে। তবে লিসা কুক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বন্ধকী জালিয়াতির সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
এর আগে গত আগস্ট মাসে লিসা কুককে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ শেয়ার করা এক চিঠিতে ট্রাম্প কুককে লিখেছিলেন, "ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নরস পদ থেকে আপনাকে অবিলম্বে অপসারণ করা হলো।" মিশিগান ও জর্জিয়ায় দুটি সম্পত্তির জন্য পরস্পরবিরোধী বন্ধকী নথিতে স্বাক্ষর করার ফৌজদারি অভিযোগের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁকে বরখাস্ত করার জন্য এটিই "যথেষ্ট কারণ"। চিঠিতে ট্রাম্প আরও লেখেন, "প্রথম প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সচেতন থাকা সত্ত্বেও আপনি কীভাবে দ্বিতীয়টি করলেন, তা ভাবাই যায় না।"
ট্রাম্প তাঁর চিঠিতে আরও যোগ করেন, "ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সততার ওপর মার্কিন জনগণের পূর্ণ আস্থা থাকা জরুরি। একটি আর্থিক বিষয়ে আপনার প্রতারণামূলক এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক আচরণের কারণে জনগণ বা আমি কেউই আপনার সততার ওপর আস্থা রাখতে পারছি না।" এই বরখাস্তের আগে ট্রাম্প কুককে নিজে থেকে পদত্যাগ করার জন্য সতর্ক করেছিলেন, অন্যথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন।
২০২২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লিসা কুককে ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নরসে মনোনীত করেছিলেন। কুক শুরু থেকেই কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "হুমকি দিয়ে বা জোর খাটিয়ে আমাকে পদত্যাগে বাধ্য করার কোনো সুযোগ নেই।" ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান বিল পুল্টে প্রথম কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন এবং বিষয়টি বিচার বিভাগে পাঠান। এরপরই এই অভিযোগগুলো সামনে আসে।

