ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর কঠোর ও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তথাকথিত 'উদ্ভট' বা 'রগ' প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই আদালতকে অকার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করল ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য আইসিসির সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার দাবি, মার্কিন সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আমেরিকানদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রচেষ্টার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কো রুবিও হুমকি দিয়ে বলেছেন, 'হয় আইসিসি তাদের হুমকি বন্ধ করবে, না হয় আমরা আইসিসিকেই বন্ধ করে দেব।' এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ১৭ জন বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, কিন্তু এবারের পদক্ষেপটি সরাসরি আদালতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে, যাতে এর আর্থিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
আইসিসি এই নিষেধাজ্ঞাকে আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভিত্তিমূলের ওপর সরাসরি আঘাত বলে নিন্দা জানিয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো তাদের কাজের গতি ব্যাহত এবং সহযোগীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও, তারা কোনোভাবেই দমে যাবে না। আদালত আরও বলেছে, 'ইতিহাস এই মুহূর্তের বিচার করবে।'
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর একটি গুরুতর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আইসিসির সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডস আদালতের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন সতর্ক করে বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা আদালতের কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করে আসছে, যার সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১২৫টি দেশ। ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছে যে, আইসিসি 'গ্লোবালিস্ট' বা বিশ্ববাদীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের অতীতের একটি তদন্ত এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞায় পরোয়ানা প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়নি।
মার্কো রুবিও জানান, আইসিসি ও সদস্য দেশগুলো যাতে মার্কিন উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনা করে, সেজন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপে কিছুটা দেরি করা হয়েছিল। তিনি যুক্তরাজ্যসহ আইসিসির স্বাক্ষরকারী মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে এই প্রতিষ্ঠানকে 'নিয়ন্ত্রণে রাখার' আহ্বান জানিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো, এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই সাবেক আইসিসি বিচারক নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

