ফিলাডেলফিয়া ইগলসের প্রধান কোচ নিক সিরিয়ানির ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন ক্রীড়াঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘরের মাঠে লস অ্যাঞ্জেলেস র্যামসের কাছে ২৪-২০ ব্যবধানে হেরে চলতি মরসুমে ইগলসের রেকর্ড এখন ২-২। এই মন্থর সূচনার পরই কোচের চাকরি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে দলের এই অফ-ফর্মের জন্য কোচকে নয়, বরং মাঠে থাকা তারকা খেলোয়াড়দেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সাবেক তারকা রানিং ব্যাক লেশান ম্যাককয়।
চলতি সপ্তাহে রাইট ট্যাকল লেন জনসনের আকস্মিক অবসরের ঘোষণা এবং পরের দিনই বাল্টিমোর রেভেনসের কাছে অফেনসিভ লাইনম্যান ক্যাম জার্গেন্সকে ট্রেড করার সিদ্ধান্ত ইগলস শিবিরে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সিরিয়ানিকে বরখাস্ত করার এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন ম্যাককয়। নিজের শো ‘দ্য ফ্যাসিলিটি’-তে এক ভক্তের মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, "আমার ভাই নিক শুধুই জিততে জানে। আমরা নিক সিরিয়ানিকে দোষ দিতেই পারি, কিন্তু দিনশেষে মাঠে খেলোয়াড়দেরই খেলতে হবে।"
সিরিয়ানির ট্র্যাক রেকর্ডের প্রশংসা করে ম্যাককয় আরও বলেন, "গত ছয় বছরে ও সব কটি প্লে-অফে খেলেছে। কয়েকবার ডিভিশন শিরোপাও জিতেছে। আমাদের দুটি সুপার বোল উপস্থিতি রয়েছে এবং একটিতে আমরা জিতেছি। এটি এমন এক জীবনবৃত্তান্ত যা যেকোনো জেনারেল ম্যানেজার নিজের দলে চাইবেন।" উল্লেখ্য, গত মরসুমে প্রথম ১০ ম্যাচের মধ্যে ৮টিতে জেতার পর থেকে সিরিয়ানির অধীনে ইগলসের রেকর্ড ৫-৭। সাধারণত দলের খারাপ ফলের দায় কোচের কাঁধেই পড়ে, তবে ইগলসের কোচ ছাঁটাইয়ের অতীত ইতিহাস থাকলেও সিরিয়ানির পূর্বের সাফল্য তার পক্ষে কথা বলতে পারে বলে মনে করছেন বোদ্ধারা।
কোচকে সমর্থন করলেও চলতি মরসুমে ইগলসের সুপার বোল জয়ের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না ম্যাককয়। তিনি বলেন, "চলতি বছরটি আমাদের জন্য ভালো নাও যেতে পারে। আমরা হয়তো আমাদের ডিভিশনে লড়াই করব, কিন্তু সুপার বোলে যেতে পারব না।" দলের অফেন্সের ধারাবাহিকতার অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। চতুর্থ সপ্তাহে র্যামসের বিপক্ষে কোয়ার্টারব্যাক জ্যালেন হার্টসের পারফরম্যান্সের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১০ গজ পাস দিতে পেরেছিলেন হার্টস।
লেন জনসনের অবসর দলের অফেনসিভ লাইনকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন অফেনসিভ কোঅর্ডিনেটর শন ম্যানিয়নের নতুন সিস্টেম এখনো আশানুরূপ ফল দিতে পারেনি। তবে মরসুমের শুরুতে নতুন কৌশলের সাথে খেলোয়াড়রা মানিয়ে নিতে পারলে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে ইগলসের সামনে।

