২০২৬ সালে রাঁচিতে ভারতের বিপক্ষে ২৫০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ২৫৯ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, যা এখনো শীর্ষ স্থানে রয়েছে। সার্বিকভাবে সব ধরনের টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা এটি সপ্তম। এর মধ্যে তিনটিই এসেছে চলতি বছরে, যার মধ্যে মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) এমআই নিউ ইয়র্কের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ফ্রিডমের সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৬৭ রান তাড়া করার রেকর্ডটি অন্যতম।
রাঁচির এই ছক্কার বৃষ্টিতে দুই দল মিলিয়ে সংগৃহীত ৫০১ রান পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ এগ্রিগেট। সেঞ্চুরিয়নের সেই ২০২৩ সালের ম্যাচে হওয়া ৫১৭ রানের পরই এর অবস্থান। এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ম্যাচ এগ্রিগেটের সেরা পাঁচটির চারটিতেই নাম রয়েছে ভারতের, যার তিনটিই এসেছে ২০২৬ সালে। ম্যাচে ভারত ৫ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করেছিল, যা তাদের ২৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ থেকে মাত্র এক রান দূরে থামিয়ে দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এটি টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থবার ২৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস, যা ইংল্যান্ডের সমান এবং ভারতে সাতটির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ম্যাচটিতে ৪৬টি চার এবং ৩৩টি ছক্কার সাহায্যে মোট ৭৯টি বাউন্ডারি হয়, যা যেকোনো টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের তৃতীয় সর্বোচ্চ বাউন্ডারি গণনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাই মারে ২০টি ছক্কা, যা তাদের এক ইনিংসে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ভারতের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে এটি ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা মারার নজির; এর আগে ২০১৬ সালে লডারহিলে তারা ২১টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল। দুটি পূর্ণাঙ্গ সদস্য দেশের টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে ২০ বা তার বেশি ছক্কা মারার ঘটনা ঘটেছে ১০ বার, যার মধ্যে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ উভয় দলই এটি চারবার করে করেছে। এছাড়া আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড একবার করে এই কৃতিত্ব দেখায়। বাউন্ডারি থেকেই এই ম্যাচে সংগৃহীত হয় ৩৮২ রান, যা টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অবিস্মরণীয় জয়ের মূল কাণ্ডারি শাই হোপ মাত্র ৬ দিনের ব্যবধানে দুই ফরম্যাটেই দেশের সর্বোচ্চ রান তাড়ার নায়ক বনে যান। এর আগে নিউ চণ্ডীগড়ে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৩৫২ রান তাড়ার ম্যাচে ১৬২* রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডেতে ১৫০-পেরোনো ইনিংস এবং টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির মধ্যে ৬ দিনের এই ব্যবধান যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য সর্বনিম্ন। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই জোড়া কীর্তি গড়ার ঘটনা রয়েছে মোট পাঁচটি, যার তিনটিই রোহিত শর্মার নামাঙ্কিত। এছাড়া ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির ব্যবধানের বিচারে এটি পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৃতীয় সংক্ষিপ্ততম। ২০১৮ সালে রোহিত শর্মা ব্রিস্টলে টি-টোয়েন্টিতে ১০০* এবং ট্রেন্ট ব্রিজে ওয়ানডেতে ১৩৭* রান করেছিলেন ৪ দিনের ব্যবধানে। আর ২০১৩ সালে অ্যারন ফিঞ্চ সাউদাম্পটনে ১৫৬ (টি-টোয়েন্টি) এবং এডিটিংবার্গে ওয়ানডেতে ১৪৮ রান করেছিলেন।
হোপের এটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর মাধ্যমে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসের সর্বোচ্চ দুটি সেঞ্চুরির রেকর্ডে ভাগ বসান। জনসন চালস ও রভম্যান পাওয়েল একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন। এই ফরম্যাটে হোপের এটি ১৫তম ফিফটি-প্লাস স্কোর, যা লুইসের সমান এবং গেইলের ১৬টির চেয়ে মাত্র একটি কম। মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন হোপ, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম (২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে জনসন চালসের ৩৯ বলের পর)। ভারতের বিপক্ষে এটি যৌথভাবে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি; ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডের জেক বেথেলও ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে কেবল দুটি সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং দুটিরই মালিক শাই হোপ (দুটিতেই অপরাজিত ১০২ রান)। আগের সেঞ্চুরিটি তিনি গত বছর বাসেতেরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে করেছিলেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্কট এডওয়ার্ডস (৯৯ রান)। এছাড়া নিউ চণ্ডীগড়ে তার ১৬২* রান ওয়ানডেতে উইকেটকিপার-অধিনায়কের সর্বোচ্চ ইনিংস, যা ২০১৫ সালে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ১৪৯ রানকে ছাড়িয়ে যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে হোপের সেঞ্চুরি এখন ১০টি (৮ ওয়ানডে, ২ টি-টোয়েন্টি), যা এমএস ধোনির ১১টি সেঞ্চুরির ঠিক পরেই।
ম্যাচে দুই দলের দুই উইকেটকিপার শাই হোপ (১০২*) এবং সঞ্জু স্যামসন (৮২) মিলে সংগ্রহ করেন ১৮৪ রান, যা টি-টোয়েন্টিতে দুই কিপারের যৌথ সংগ্রহ হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে সোফিয়াতে সার্বিয়ার লেসলি ডানবার (১১৭) ও বুলগেরিয়ার সায়েম হোসেন (৭১) মিলে করেছিলেন ১৮৮ রান। অন্যদিকে, এই হারের ফলে ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের টানা ১০ ম্যাচ জয়ের ধারা থেমেছে। ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে এটি দ্বিতীয় দীর্ঘতম জয়রথ, রোহিত শর্মার টানা ১৪টি (নভেম্বর ২০১৯ – জুলাই ২০২২) জয়ের পর। রোহিতের ৮ ম্যাচের জয়রথ রয়েছে তিন নম্বরে। এছাড়া ব্যাটার তিলক ভার্মা ১৬৬ ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছান, যা কেএল রাহুল (১৪৩), রুতুরাজ গায়কোয়াড় (১৪৫), শুভমান গিল (১৫৪) ও অভিষেক শর্মার (১৬৫) পর ভারতের পঞ্চম দ্রুততম।
শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের মধ্যে ১২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটি টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার নম্বর বা তার নিচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর ওপরে কেবল পের্থে ২০২৪ সালে রাদারফোর্ড ও আন্দ্রে রাসেলের ১৩৯ রানের জুটি। ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো উইকেটে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি, ২০১৬ সালে লডারহিলে চালস ও লুইসের ১২৬ রানের ওপেনিং জুটির পর। রাদারফোর্ড টানা তিন ম্যাচে ফিফটি-প্লাস রান সংগ্রহ করলেন, যা গেইল, লুইস ও নিকোলাস পুরানের সাথে যৌথভাবে ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধারাবাহিক ইনিংস; শীর্ষে ২০১২ সালে গেইলের টানা চার ম্যাচের ফিফটি।

