ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপের একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ আটক করেছে। বিবিসি আই-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর আহমাদ ইমানুদ্দিন সুমার, যিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ‘আবাহ’ নামে পরিচিত ছিলেন, তাকে পুলিশি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগগুলো প্রকাশ হওয়ার পর পুলিশ মামলাটি নতুন করে চালু করে। প্রতিবেদনে নথিবদ্ধ করা হয় যে, কীভাবে সাবেক শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন। এই ঘটনাটি জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং এর ফলে আরও ১২ জন সাবেক শিক্ষার্থী পুলিশের কাছে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।
এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাবেক দুই শিক্ষার্থী জিয়াদাতুর রাহমাহ (জিয়া) এবং সুকমা রোহানা ফাজার। জিয়া যখন কায়রোতে এবং তার সহপাঠী ইউসরণ আজ্জাহিদি জাকার্তায় ছিলেন, তখন জিয়া ইউসরণকে জানান যে ১৭ বছর বয়সে প্রধান শিক্ষক তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। এরপর তারা প্রমাণ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। তারা সুকমার সাথে যোগাযোগ করলে সুকমা অভিযোগ করেন যে, আবাহ স্কুলে থাকাকালীন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন।
ইউসরণ সাত পৃষ্ঠার একটি নথিতে সমস্ত অভিযোগ সংকলন করেন এবং তা নাহদলাতুল ওয়াতান দিনিয়াহ ইসলামিয়াহ (এনডব্লিউডিআই)-এর প্রতিনিধিদের কাছে জমা দেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সহায়তা করার পরিবর্তে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। গোপন রেকর্ড করা একটি ফোন কলে আবাহকে বলতে শোনা যায়, "তোমার শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করো। সবাই ভুল করে, আমার সন্তান।" জিয়া এবং সুকমা তাদের কথোপকথনের গোপন রেকর্ডিং বিবিসির কাছে সরবরাহ করেন।
বিবিসি অনুসন্ধানের পর আবাহ একটি সংবাদ সম্মেলন করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি রেকর্ডিংয়ে তার গলার স্বর অস্বীকার করেননি, তবে দাবি করেন যে এগুলো কোনো স্বীকারোক্তি ছিল না। সুকমা জানান, তাকে জোর করে একটি নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল, যেখানে বলা ছিল তার অভিযোগগুলো মিথ্যা। আবাহর স্ত্রী, যিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ‘উমি’ নামে পরিচিত, সুকমাকে গোপন রেকর্ডিংয়ে বলেছিলেন যে ওই নথিটি তার স্বামীর সম্মান রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
আইনজীবী জোকো জুমাদির সহায়তায় শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায়বিচারের লড়াই পুনরায় শুরু করেন। বিবিসি প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে যান। জিয়া ও ইউসরণ জানান, তারা সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থীই তাদের সাথে যোগাযোগ করে নিজেরাও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এনডব্লিউডিআই কর্তৃপক্ষ অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে এবং তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ব্যক্তি বিশেষের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়া থেকে রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। আবাহ স্কুল থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলার কথা জানিয়েছেন।

