পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলারের জাতীয় দল থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফেডারেশন এই ঘটনাটিকে জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে রোনালদোকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ার্ম আপ করতে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে নেই জানতে পেরে তিনি পর্তুগালের নেশন্স লিগ স্কোয়াড ত্যাগ করেন। পর্তুগিজ মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো ম্যাচ বা প্রশিক্ষণ সেশনে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তাকে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
রোনালদো এই সপ্তাহে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ফেডারেশন যে শাস্তিই দেবে তা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি পর্তুগাল দলের কোচ জর্জ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন। তার দাবি, জেসুস তাকে নেশন্স লিগের ম্যাচে খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন, যা তিনি রাখেননি। তবে রোনালদো স্পষ্ট করেছেন যে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছেন না এবং শাস্তি ভোগের পর জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
রোনালদো আরও অভিযোগ করেন যে, ডেনমার্ক ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ জেসুস তাদের কথোপকথনের বেশ কিছু বিষয় গোপন করেছেন। এর মধ্যে ছিল রোনালদোর এই মন্তব্য যে, পেলে বা মারাদোনার মতো খেলোয়াড়কে ওয়ার্ম আপ করিয়ে মাঠে না নামানোটা কোচের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কোচ জর্জ জেসুস অবশ্য রোনালদোর এই মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি ফেডারেশনের সদর দপ্তরে কাজ করছেন এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন।
পর্তুগাল ইতিমধ্যেই নেশন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। দলটির পরবর্তী দুটি ম্যাচ হলো ১৪ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং ১৭ নভেম্বর ওয়েলসের বিপক্ষে। এদিকে, রোনালদো শুক্রবার সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে মাঠে ফিরেছেন এবং দিরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী ম্যাচে গোল করেছেন। এটি তার ক্যারিয়ারের ৯৮০তম গোল।

