কিউবার হাভানার ভেদাডো এলাকায় প্রতি বৃহস্পতিবার ও রবিবার দুপুরে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে ভিড় জমান স্থানীয়রা। লরা মেন্ডোজা নামের এক নারী সেখানে তালিকা মিলিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অনুরোধ করা ওষুধ সরবরাহ করেন। অ্যান্টিহিস্টামিন, ডাইইউরেটিকস, চোখের ড্রপ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের মতো জরুরি ওষুধগুলো তিনি বিনামূল্যে বিতরণ করেন।
কয়েক দশক ধরে কিউবার রাষ্ট্রীয় ফার্মেসিগুলোই ছিল ভর্তুকি মূল্যের ওষুধের প্রধান উৎস। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে অনলাইন বিক্রেতা, রাস্তার হকার এবং হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মেন্ডোজা জানান, হাভানাতেই এ ধরনের প্রায় ১০০টি কমিউনিটি প্রকল্প কাজ করছে। ক্যাথলিক দাতব্য সংস্থা কারিটাসের সহায়তায় তার এই উদ্যোগে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রতি সপ্তাহে ১৩ কেজিরও বেশি (২৯ পাউন্ড) ওষুধ আসে।
তবে রেফ্রিজারেশনের প্রয়োজন এমন ওষুধ, ডায়াবেটিসের ইনসুলিন এবং ক্যানসারের ওষুধ জোগাড় করা বেশ কঠিন। এছাড়া হাসপাতালের জন্য গজ, সিরিঞ্জ ও অ্যানেস্থেটিকের সংকটও প্রকট। ২৭ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ক্রিস্টিনা দিয়াজ জানান, ছয়-সাত বছর আগেও রাষ্ট্রীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ পাওয়া সহজ ছিল, কিন্তু এখন তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কিউবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৬০৩টি ওষুধের মধ্যে বর্তমানে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ৪০০টি ওষুধ কিউবার ল্যাবরেটরিতে আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হয়। রাষ্ট্রীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বায়োকিউবাফার্মার প্রেসিডেন্ট মেইদা মাউরি পেরেজ জানিয়েছেন, কোম্পানিটির সরবরাহ করার কথা ছিল ৩৯৫টি ওষুধ, কিন্তু আমদানিকৃত কাঁচামালের অভাবে এর মধ্যে ৩০০টিই উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। সিগো ডি আভিলা প্রদেশে রাষ্ট্রীয় ফার্মেসিতে ওষুধের মজুদ মাত্র ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিক সমস্যার পাশাপাশি মার্কিন আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ওষুধ আমদানি ও পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউবার পার্লামেন্ট ১৭৬টি অর্থনৈতিক সংস্কারের প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যার অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ফার্মেসি চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ৩৬টি বেসরকারি ফার্মেসি খোলার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে নতুন এই নিয়ম চালুর অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের জন্য কমিউনিটি উদ্যোগগুলোই এখন প্রধান অবলম্বন। এদিকে, ৬৯ বছর বয়সী সারা মার্কেজ, যিনি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন করেন, জানান যে আগে একটি ব্লিস্টার প্যাকের দাম ছিল মাত্র ০.৩০ কিউবান পেসো। কিন্তু বর্তমানে কালোবাজারে একই পরিমাণ ওষুধের দাম ১,০০০ পেসো (১.৫০ ডলার) পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে, যা তার মাসিক পেনশনের ৩০ শতাংশেরও বেশি।

