সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিকবার হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি মিলিশিয়া। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রবিবার জানান, তারা ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন ব্যবহার করে চারটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মাম বিমানবন্দর এবং সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি স্থাপনা রয়েছে।
এদিকে, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে মারা যান। এই নিয়ে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
রবিবার বিকেলে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, এই নতুন হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করছে। তবে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন বা তাদের আঘাত কতটা গুরুতর, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানে, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলার দাবি করেছে হুতিরা। হামলার পর রবিবার ওই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায়, বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও স্পেনের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের বাড়িতে অবস্থান করার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

