রাশিয়া ও ইউক্রেন মঙ্গলবার একে অপরের বিরুদ্ধে রাতভর বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস (ডিএসএনএস) জানিয়েছে, খারকিভের খোলদনিহিরস্কি জেলায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি চারতলা আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। এই ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিয়েভের দারনিতস্কি জেলাতেও একটি আবাসিক ভবনে হামলা হয়েছে, যাতে একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় খমেলনিৎস্কি অঞ্চলে ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন এবং একটি আঞ্চলিক চিকিৎসা কেন্দ্রের জানালা ও প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিভনে অঞ্চলে আরেকটি হামলায় ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। মাইকোলাইভ অঞ্চলে রুশ হামলায় একটি কার্গো টার্মিনাল ও বেশ কিছু গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হেওরিহি রেশেতনিকভ। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর দাবি, রাশিয়া মোট ১০৮টি ড্রোন পাঠিয়েছিল, যার মধ্যে ৮৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিয়ানস্ক সীমান্ত অঞ্চল থেকে পাঁচটি ইস্কান্দার-এম/এস-৪০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভের একটি ওয়ার্কশপ ও লোকোমোটিভ ডিপো এবং মাইকোলাইভের একটি লজিস্টিক সেন্টার, গুদাম ও শুষ্ক কার্গো জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার দাবি, এসব স্থাপনা ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভের ওপর হামলার বিষয়ে তারা কোনো আগাম সতর্কতা পাননি। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি খাতে কোনো হামলা চালায়নি, অথচ রাশিয়া তাদের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা পোল্যান্ডে ওয়ারশ সিকিউরিটি ফোরামে জানিয়েছেন, কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে এবং বিশেষ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা সতর্কবার্তায় দেরি হয়েছিল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ১৫টি অঞ্চল এবং আজভ সাগরের ওপর দিয়ে আসা ইউক্রেনের ৬০৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৭টার মধ্যে মস্কো অঞ্চলের দিকে আসা ৪১৭টি ড্রোন শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫টি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া কালুগা অঞ্চলে ৭৩টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে, যার আঘাতে একটি স্কুল ভবন, দুটি বাড়ি ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুলা ও ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নররা ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার কথা জানালেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করেননি। স্তাভরোপোল গভর্নর ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরভ জানিয়েছেন, নেভিনোমিস্ক শহরের শিল্পাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইয়েগর কোভালচুক জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড নেভাতে গিয়ে তিনজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশই বেসামরিক অবকাঠামোয় ইচ্ছাকৃত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের হামলা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর পরিচালিত বলে দাবি করছে।

