গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং নারীসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার গাজার বিভিন্ন প্রান্তে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গাজা সিটির পূর্ব দিকে তুফাহ এলাকার আল-মাশাহারা নামক স্থানে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। একই সময়ে গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে মেশিনগান দিয়ে গুলি ও শেল নিক্ষেপ করা হয়, তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজার খান ইউনিসের উত্তর দিকে হামাদ সিটিতে ইসরায়েলি গুলিতে এক নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া শহরের পশ্চিম দিকে আল-আমাল হাসপাতালের কাছে আরও একজন পুরুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক যানগুলো খান ইউনিসের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবির লক্ষ্য করে ভারী গোলাবর্ষণ করেছে।
উত্তরাঞ্চলীয় গাজার বেইত লাহিয়ায় কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি গুলিতে আরও একজন ফিলিস্তিনি মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন। ওই একই এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বেশ কিছু বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং হাসপাতালের উত্তরের ভবনগুলোর বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসযজ্ঞের সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত ইসরায়েলি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১,৪৯৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫,২৯৯ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ৭৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৫,০০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতায় উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

