রেকর্ড তাপমাত্রা ও নজিরবিহীন গরমের পর ব্রিটেনের দক্ষিণ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তীব্র খরা’ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। গত ১৮৩৬ সালে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে চলতি ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ উত্তাপ ও মারাত্মক অনাবৃষ্টির মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। শরৎকালেও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় বর্তমানে ইংল্যান্ডের ৮০ শতাংশেরই বেশি এলাকা খরার কবলে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির প্রধান ফিলিপ ডাফি জানান, গ্রীষ্মের রেকর্ড ভাঙা উত্তাপ এবং এই অনাবৃষ্টি পানিসম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইংল্যান্ডের কর্নওয়াল, ডেভন, ডরসেট, সমারসেট, ইস্ট সাসেক্স এবং ওয়েস্ট সাসেক্স কাউন্টিতে এই তীব্র খরা পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং অন্যান্য পরিবেশগত সূচক মারাত্মক নিচে নেমে যাওয়ার পরই খরার এই চূড়ান্ত ধাপটি কার্যকর করা হয়।
বর্তমানে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান দুটি জলাধারের পানি ধারণক্ষমতার ২০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। এই দুটি জলাধার থেকে প্রায় ৪ লাখ গৃহস্থালিতে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, বছরের এই সময়ে সাধারণত এসব জলাধারে প্রায় ৭৫ শতাংশ পানি সংরক্ষিত থাকার কথা। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়টি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক ছিল।
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই খরা ও তাপদাহের মতো চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলো তীব্রতর হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যমতে, পুরো ইংল্যান্ড জুড়ে জলাধারগুলোতে গড়ে ৫৪ শতাংশ পানি সংরক্ষিত ছিল। এছাড়া অক্টোবর মাসে সেখানে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের মাত্র ১০ শতাংশ নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি উত্তোলনের ওপর কড়া নজর রাখতে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। একই সাথে সাধারণ গ্রাহকদের পানির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি অঞ্চলে পানি ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ইগল বলেন, এই মাত্রার খরা পরিস্থিতি বিগত কয়েক দশকের মধ্যে দেশবাসীকে প্রত্যক্ষ করতে হয়নি।
টানা কয়েক মাসের এই অনাবৃষ্টি কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে। অতি শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে গ্রীষ্মকালে দেশের বেশ কিছু স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সংকট মোকাবেলায় গত আগস্ট মাস থেকে সরকার প্রতি সপ্তাহে একটি জাতীয় খরা কমিটি বা ‘ন্যাশনাল ড্রট গ্রুপ’ গঠন করে নিয়মিত বৈঠক করে আসছে। এই কমিটিতে আবহাওয়া সংস্থা, পানি কোম্পানি, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং কৃষক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

