পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়েছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। এটি গত ২৪ বছরের ইতিহাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ঘটনা। সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে পাকিস্তান। নিজের পঞ্চম ওয়ানডে খেলতে নামা চেতন বিমুক্তি পাকিস্তানের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে দেন। মাত্র ১০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন গুল ফিরোজা ও মুনিবা আলী। তারা ৬৮ রানের জুটি গড়েন, তবে চামারি আতাপাত্তু ফিরোজাকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন। এরপর নাজিহা আলভি কিছু সময় লড়াই করলেও দলীয় ১১০ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত ভেঙে পড়ে। ১৪৬ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক ফাতিমা সানা একাই লড়াই চালিয়ে যান। তার ৪১ রানের সুবাদে পাকিস্তান ১৮৭ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। শ্রীলঙ্কার পক্ষে কাভিশা দিলহারি ও চামারি আতাপাত্তু প্রত্যেকে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটি বেশ সাবলীল ছিল। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ভিশমি গুনারত্নে সপ্তম ওভারে আউট হওয়ার আগে আতাপাত্তুর সাথে ভালো একটি জুটি গড়েন। আতাপাত্তু তানিয়া রুবাবের এক ওভারে তিন চার ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। গুনারত্নে আউট হওয়ার পর রানের গতি কিছুটা কমলেও আতাপাত্তু তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩০তম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস পূর্ণ করেন।
শেষ পর্যন্ত হার্শিতা সামারাবিক্রমা ও হাসিনি পেরেরার অবিচ্ছিন্ন জুটি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। হাসিনি পেরেরা গত বছর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পাওয়ার পর এই বছর নিয়ে তিনটি ফিফটি হাঁকালেন। ৭৬ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। এর মাধ্যমে ২০০২ সালের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের টানা চার সিরিজ জয়ের ধারার সমাপ্তি ঘটল। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য চামারি আতাপাত্তু ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন, আর সিরিজে ১৭৩ রান করে সিরিজ সেরা হয়েছেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা। আগামী ৩১ জুলাই ডাম্বুলায় টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে।

