ঢাকার অদূরে সাভারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি ফারমার্স মিনি কোল্ডস্টোরেজ পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার এই প্রযুক্তি এবং এর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের মতে, কৃষক পর্যায়ে এমন আধুনিক ও স্বল্প পরিসরের সংরক্ষণ ব্যবস্থা কৃষিপণ্যের অপচয় কমানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন ইউএসডিএর দক্ষিণ এশিয়ার অ্যানিম্যাল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইনস্পেকশন সার্ভিসেসের পরিচালক ড. ক্যাথরিন ফিডলার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট এবং ইউএসডিএর অ্যাগ্রিকালচারাল স্পেশালিস্ট মো. তানভির আহমেদ।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল কোল্ডস্টোরেজের ভেতরে সারি সারি প্লাস্টিকের ক্রেটে রাখা আম, লাউ, পেঁপে ও কাঁচা মরিচসহ নানা ধরনের ফল ও সবজি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা পণ্যের সংরক্ষণ সময়কাল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এ সময় ড. ক্যাথরিন ফিডলার নিজের হাতে একটি লাউ এবং এরিন কোভার্ট একটি পেঁপে পরীক্ষা করে দেখেন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, এই প্রযুক্তিতে সংরক্ষিত অধিকাংশ ফল ও সবজি এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত সতেজ থাকে। পণ্যের গুণগত মান, রং ও সতেজতা অপরিবর্তিত দেখে প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাশরুর প্রতিনিধিদলকে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং কৃষকদের জন্য এর সুফল সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত নষ্ট হওয়ার ফলে যে বিশাল অপচয় হয়, মিনি কোল্ডস্টোরেজ তা কমিয়ে কৃষকদের সুবিধাজনক সময়ে পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে।
প্রতিনিধিদল এই ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তারা মাঠপর্যায়ে এই অভিজ্ঞতা অর্জনের পর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা অভিমত দেন।
উল্লেখ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৪৭টি মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে।

