ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কারাবন্দি ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া। বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই এই মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুতিন জানান, হাবার্ডকে পুলকোভো বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাবেক এই শিক্ষক এখন “বাড়ির পথে” রয়েছেন এবং এই মুক্তির জন্য কোনো “বন্দি বিনিময়” প্রয়োজন হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প আরও জানান, গত সপ্তাহে তিনি সরাসরি পুতিনের কাছে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর আগে বিভিন্ন সময় আটক মার্কিনিদের মুক্ত করতে বন্দি বিনিময় করলেও এবার তা করা হয়নি।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সময় ইউক্রেনের ইজিয়ামে একটি প্রতিরক্ষা ইউনিটে কাজ করার অভিযোগে হাবার্ডকে আটক করা হয়। ২০২৪ সালে তাকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়ে পেনাল কলোনিতে পাঠানো হয়েছিল। মিশিগানের বাসিন্দা হাবার্ডকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর “অন্যায়ভাবে আটক” হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং ট্রাম্প মঙ্গলবারই তার মুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাবার্ডের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না এবং তাকে চিকিৎসার জন্য টেক্সাসে নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকের সময় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনের প্রশংসা করে তাকে “মানবিক” হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে উইটকফ নরওয়েতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। সেন্ট পিটার্সবার্গের বৈঠকে উইটকফ ও পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান নিয়ে আলোচনা করেন।
ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটিকেও তিনি সমর্থন করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, যদি সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হতো, তবে হাবার্ডের মুক্তির আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত। এছাড়া বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি, চীনে সম্ভাব্য বৈঠক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া মার্কিন বাজারে বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহ করতে সক্ষম।

