পশ্চিম আফ্রিকার জান্তা শাসিত দেশ বুরকিনা ফাসোর পার্লামেন্ট একটি নতুন দণ্ডবিধি গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করা হলো। মঙ্গলবার দেশটির আইনসভার ৭১ জন সদস্যই এই নতুন দণ্ডবিধির পক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট দিয়েছেন।
দেশটির বিচারমন্ত্রী এডাসো রদ্রিগ গুয়ে বায়ালা এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে কার্যকর থাকা মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। তৎকালীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক ক্রিশ্চিয়ান কাবোরের আমলে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করা হয়েছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, বুরকিনা ফাসোতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৮ সালে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে জান্তার মন্ত্রিসভা মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের বিলটি অনুমোদন করেছিল। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাগুলোর মতে, এটি একটি দমনমূলক পদক্ষেপ, যা ভিন্নমত দমনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। ২০২৪ সালে বিচারমন্ত্রী বায়ালা বলেছিলেন যে, মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তা কার্যকর করা হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সামরিক জান্তা এর আগে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের আটক করে ভিন্নমত দমনের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে তারা দেশের সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে এবং সেগুলো পরিচালনার আইনও বাতিল করে দেয়।
প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার স্থলবেষ্টিত দেশ বুরকিনা ফাসো বর্তমানে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, সরকারি বাহিনী এবং আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন উভয়ই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই বছরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি বাহিনী জঙ্গিদের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।

